দিল্লিতে পিজি ভবন ধসে দেড় ঘণ্টা আটকে শিক্ষার্থী
ছবি- সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দিল্লির সত্য নিকেতনে পিজি ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে ছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের বি.কম শিক্ষার্থী নিশিথ চিব। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হলেও গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিতে হয়।
রোববার দুপুরে পিজির নিজের কক্ষে খাওয়া শেষ করেছিলেন নিশিথ। মুহূর্তের মধ্যেই বিকট শব্দে ভবনটি ধসে পড়ে। তাঁর সঙ্গে থাকা এক বন্ধুও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
নিশিথ জানান, তাঁর বন্ধু কোনোভাবে হোয়াটসঅ্যাপে নিজের অবস্থান ও সাহায্যের বার্তা কয়েকজন বন্ধুর কাছে পাঠাতে সক্ষম হন। পরে তাঁরা উদ্ধারকারী দলকে খবর দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দুজনকেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয়। তখন তাঁরা আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন।
হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর নিজের অবস্থার কথা স্মরণ করে নিশিথ বলেন, ‘আমার পুরো শরীর অবশ হয়ে গিয়েছিল। কিছুই অনুভব করতে পারছিলাম না। পরে বুঝতে পারি, আমি রক্তাক্ত।’
নিশিথের ভাষ্য, পিজিতে থাকা শিক্ষার্থীরা কখনো ভাবেননি ভবনটি এতটাই দুর্বল যে হঠাৎ ধসে পড়তে পারে। বাইরে থেকে ভবনটিকে স্বাভাবিকই মনে হতো। দেয়ালে কোনো ফাটল বা বিপদের আগাম লক্ষণও তাঁরা দেখেননি।
তবে ধসের আগে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভবনের বেসমেন্টে কাজ চলছিল বলে জানান তিনি। এরপরই আচমকা ভবনটি ধসে পড়ে।
আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন নিশিথের সরকারের প্রতি আবেদন, দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের থাকার পিজিগুলোতে নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং নিয়মিত ভবন পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা।
তিনি বলেন, পড়াশোনার জন্য দিল্লিতে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকেরই এ ধরনের পিজিতে থাকতে হয়। তাই ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।
রোববারের ওই ঘটনায় ভবন ধসে পাঁচ শিক্ষার্থীসহ সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার পর দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, ভবনটির মালিকেরা পুরোনো ভিত্তি অতিরিক্ত ভার বহনের উপযোগী নয় বলে জানতেন। এরপরও তাঁরা ভবনটির ওপর আরও তলা নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এফআইআর অনুযায়ী, হরিরাম বনসাল ওরফে গুপ্তা এবং তাঁর ভাই ভাড়ার আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পুরোনো ভবনের ওপর আরও চারটি তলা নির্মাণ করেছিলেন। অতিরিক্ত তলা ও নির্মাণকাজের কারণে ভবনটির কাঠামো ও ভার বহনক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে। এতে কয়েক দশক পুরোনো ভবনটি ধারণক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যায় বলে তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে।