‘সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়া এখন সময়ের ব্যাপার’ ময়মনসিংহে আসিফ মাহমুদ; বাজেটে কাঠামোগত সংস্কারের অভাব নিয়ে সমালোচনা
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
পুরোনো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বন্দোবস্তের সুবিধাভোগীরা তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার পথ আটকে ধরার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হতে বাধ্য, কারণ নতুন প্রজন্মের কাছে বর্তমান সংবিধানের কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা সম্মান অবশিষ্ট নেই। আর যে সংবিধানের প্রতি জনমানুষের শ্রদ্ধা থাকে না, তা স্রেফ একটি কাগজের বই ছাড়া আর কিছুই নয়। ফলে এই জরাজীর্ণ সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে একটি সম্পূর্ণ নতুন রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। জেন-জি এবং জেন-আলফা প্রজন্মের প্রতিনিধিরা খুব দ্রুতই এই আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ নগরের টাউন হল মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এসব কথা বলেন। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে ‘তারুণ্যের বাজেট ভাবনা ও গণভোট বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় ছাত্র শক্তি ময়মনসিংহ জেলা শাখা।
সেমিনারে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশের আর্থিক কাঠামোর ভেতর বড় ধরনের কোনো সংস্কার না এনে এত বিশাল অংকের বাজেট কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেই রূপরেখা এখনো সম্পূর্ণ অস্পষ্ট। বর্তমান কর প্রশাসনিক যে সক্ষমতা রয়েছে, তা দিয়ে বাজেটের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের প্রথম বাজেটে জনগণের স্বাভাবিক প্রত্যাশা ছিল যে, সেখানে গভীর রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণভোটের রূপরেখা ও কাঠামোগত পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন থাকবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সরকারের বাজেট পরিকল্পনায় তেমন কোনো দূরদর্শী বা বৈপ্লবিক পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি।
বর্তমান অর্থনীতির মূল সংকটগুলোকে সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে দাবি করে এনসিপির এই মুখপাত্র আরও বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা বিরাজ করছে, নতুন বিনিয়োগে চরম সংকট দেখা দিয়েছে এবং রাজস্ব ঘাটতি ক্রমাগত বাড়ছে। অথচ এসব মৌলিক সংকট মোকাবিলায় বাজেটে কোনো সুনির্দিষ্ট বা সুসংগত দিকনির্দেশনা রাখা হয়নি। সামষ্টিক অর্থনীতির এই জটিল ও গভীরতম সমস্যাগুলো সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে সরকার বরং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খননের মতো সনাতন ও জোড়াতালির কর্মসূচি নিয়েই বেশি মেতে রয়েছে। এসব চটকদার কর্মসূচি দিয়ে অর্থনীতির চলমান কাঠামোগত সংকট দূর করা যাবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
সেমিনারে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই আলোচনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তরুণদের চাওয়া-পাওয়ার চিত্রও ফুটে ওঠে। ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা জাতীয় ছাত্র শক্তির তৃণমূল নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আয়োজনে অংশ নেন। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ছাত্রনেতারা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাজেটে বিশেষ তহবিল গঠন এবং কৃষি খাতের আধুনিকায়নে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তৃণমূলের এই যুবসমাজ মনে করে, তরুণদের বাদ দিয়ে বা তাদের মেধার অবমূল্যায়ন করে কোনো রাষ্ট্র টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না।
ছাত্র শক্তির ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক আলী হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মেলবন্ধন দেখা যায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সংগঠক জাহিদ আহসান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব লুৎফর রহমানসহ আরও অনেকে। বক্তারা সকলেই আসিফ মাহমুদের বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের তরুণ সমাজ আজ রাজনীতি ও অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই এক গুণগত পরিবর্তন দেখতে চায় এবং সেই পরিবর্তন অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত থাকবে।