ভাঙাচোরা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন: ত্রিশালে নজরুলের স্মৃতিধন্য মাটিতে নতুন শপথ সংস্কৃতিমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, ত্রিশাল।।
এক সময়ের জীর্ণ শিক্ষা ও ভঙ্গুর সংস্কৃতিকে পাশ কাটিয়ে এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সোমবার দুপুরে কবি নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার এক বিধ্বস্ত অবস্থায় দেশের দায়িত্ব নিয়েছে। আমাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষা ও সংস্কৃতি ব্যবস্থাকে নতুন করে পুনর্গঠন করা।”
ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, সরকার কেবল শাসন নয়, বরং সমাজের গভীর ক্ষতগুলো নিরাময় করতে চায়। মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়া এখন সময়ের দাবি। দুর্নীতির প্রশ্নে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক, শাস্তির ক্ষেত্রে কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এবার প্রায় দুই দশক পর জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের আয়োজন হতে যাচ্ছে ত্রিশালে। আগামী ২১ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবকে ঘিরে এখন সাজ সাজ রব। মন্ত্রী জানান, এই আয়োজনের প্রতিটি দিন সরকারের একজন করে মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন এবং সমাপনী দিনে খোদ প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উৎসবের মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দেবেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বারবার এই ত্রিশালে ছুটে এসেছেন কবিকে সম্মান জানাতে। আগামীতে তারেক রহমানও এখানে আসবেন। কবি নজরুলকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলটি ঢাকার বাইরে এক বিকল্প সাংস্কৃতিক রাজধানীতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।”
মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের এক উজ্জ্বল চিত্র। তিনি কেবল ঢাকার শিল্পীদের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় প্রতিভাদের বিকাশের ওপর জোর দেন। ময়মনসিংহের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার ভাষায়, “আমরা এমন এক সংস্কৃতি গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি মানুষের নিজস্ব পরিচয় সংরক্ষিত থাকবে।”
সভা শেষে মন্ত্রী কবির স্মৃতিধন্য বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহাবুবুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নজরুল জয়ন্তীর এই আয়োজন যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে এক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা হয়, ত্রিশালের আকাশ-বাতাসে এখন সেই প্রত্যাশারই প্রতিধ্বনি।