সংবাদ শিরোনাম

খুকৃবি নামে বিএনপি বাস্তবে ফ্যাসিস্টের আতুর ঘরে পরিণত: শিক্ষাঙ্গনে ধ্বস

 প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন   |   খুলনা

খুকৃবি নামে বিএনপি বাস্তবে ফ্যাসিস্টের আতুর ঘরে পরিণত: শিক্ষাঙ্গনে ধ্বস

খুলনা ব্যুরো :

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে ফ্যাসিস্টের আতুর ঘরে পরিণত করে প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, সাবেক রেজিস্ট্রারসহ কয়েকজন সাবেক ও। বর্তমান কর্মকর্তার নাম জানা গেছে। অভিযোগে জানা গেছে , বিগত ভিসি শহীদুর রহমানের সময় নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একটি চক্র বর্তমান ভিসির প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম এবং প্রশাসনকে বিতর্কিত করার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তারা হলেন সাবেক ভিসি শহীদুর রহমান খান যিনি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে  নিজের পরিবারের ৯ জনসহ ৪২৬ জন শিক্ষক-কর্মকর্তাকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি নেপথ্য থেকে তিনি কলকাঠি নাড়ছেন। 

এরপর আছেন খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার (সাবেক রেজিস্ট্রার) যিনি সাবেক ভিসি শহীদুর রহমানের অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের প্রধান সহযোগী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনেও তিনি নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেন এবং নিজের আধিপত্য ফিরে পেতে তিনি অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছেন। 

এরপর আছেন খুকৃবির সেকশন অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান যিনি আওয়ামী মদদপুষ্ট। ১ আগস্ট ২০২২ সালে তৎকালীন বগুড়ার সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান এর সরাসরি হস্তক্ষেপে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকুরিতে যোগদানের পর তিনি খুলনার শেখ বাড়িতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়াও তাকে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন সময়ে টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের স্থিরচিত্রে দেখা গেছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ দেশের পট পরিবর্তনের পর তাকে বিএনপির স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে দেখা যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি নেতাদের ভুল বুঝিয়ে বিশ্ববিদ্যালযের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করে যাচ্ছেন। অপরদিকে চন্দন কুমার সরকার ও হুমায়রা পারভীনকে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পদাবনমনের জন্য ২২তম সিন্ডিকেটে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।

এরপূর্বে তাদের নিয়োগের বৈধতা, স্বচ্ছতা ও যথাযথ নিয়ম মেনে হয়েছে কিনা এই মর্মে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে চন্দন কুমার সরকার কে ৭ম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে এবং হুমায়রা পারভীন কে ১০ম গ্রেড থেকে ১৬তম গ্রেডে পদাবনমনের সুপারিশ করা হয়। অভিযোগে জানা যায়, চন্দন কুমার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি অভিজ্ঞতা সনদে জালিয়াতের আশ্রয় নিয়েছেন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চাকরিরত অবস্থায় তিনি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যোগদান করেন। যেটা সরকারি চাকরি বিধিতে বড় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। 

অন্যদিকে হুমায়রা পারভীনের ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতায় ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন উপাচার্য শহীদুর রহমান খানের স্ত্রী হওয়ায় কোন আইনের তোয়াক্কা না করে ২০ তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে পিএ টু ভিসি পদে নিয়োগ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সিন্ডিকেটের ২২ তম সভায় তাদের বিরুদ্ধে আনা সুপারিশের আলোকে তাদেরকে পদাবনমন করা হয়। পরবর্তীতে তারা পদাবনমনকৃত পদে যোগদান না করে হাইকোর্টে রিট করেন। রিট পিটিশন নাম্বার ৪৭৩৩/২০২৬ স্মারক নং ৩৮/২০২২/৪৪২ ,তারিখ ১৫/৪/২৬ এবং রিট পিটিশন নাম্বার ৫৬৩০/২৬ স্মারক নং ৩৩/২০২২/৪৪৩ তারিখ ১৫/৪/২০২৬ এর মাধ্যমে পূর্বের পদে বহাল থাকেন। এরাও বর্তমানে প্রশাসনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্ঠায় যোগ হয়েছেন।  আরো জানা গেছে, মোঃ মাসুদ রানা  সাবেক রেজিস্ট্রার খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার শাজাহান এর ঘনিষ্ঠজন হওয়ার সুবাদে খুকৃবিতে কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগদান করেন।তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়ায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে কম্পিউটার অপারেটর পদ থেকে পদন্নোতি পেয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে যান। তিনি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় বিএনপি'র বিভিন্ন নেতাদের সাথে নিয়মিত  যোগাযোগ রক্ষা  করেছেন। 


সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে  সাবেক ভিসি শহিদুর রহমানের পিএ হুমায়রা পারভীনের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোন দেওয়া হলে, তিনি রাগতস্বরে বলেন,  আমি ফোনে এভাবে কোনো প্রশ্নের দিতে ইচ্ছুক নই ; আপনি প্রয়োজনে আমার বাসায় আসেন অথবা আমার অফিসে আসেন, তখন কথা বলবো--- এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

সেকশন অফিসার মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন এবং বলেন, "আমি এবং আমার অন্যান্য কলিগদের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী রাজনীতিতে  সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বাধ্য করা হয়। তিনি আরও বলেন, আমার দুই ভাই সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন,তারাও বিএনপি'র রাজনীতির  সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। "


চন্দন কুমার সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসারে তিনি ৩ বছর পরে প্রমোশনের জন্য আবেদন করেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদের জন্য, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার এ আবেদন মঞ্জুর করেননি, সেজন্য তিনি হাইকোর্টের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। এতদসংক্রান্ত ডকুমেন্টস বিশ্বিবদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে গ্রহণ করা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সার্টিফিকেট সংক্রান্ত কোনো ঝামেলা তার নেই বলে তিনি দাবী করেন।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ হোসেনের নিকট উল্লেখিত ২ কর্মকর্তার পদাবনমনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "আমি এব্যাপারে কেমন কিছুই জানিনা, আমি তাদের ডিমোশনের ব্যাপারে কিভাবে বলবো?  তবে শুনছি....শোনা কথা ---- চন্দনের হয়তো সার্টিফিকেটের ব্যাপারে কোনো ঝামেলা আছে, আর হুমায়রা ঠিকমতো অফিস করেনি--- এরকম একটা ঝামেলা আছে। "

প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নথি, ফোনালাপের রেকর্ড, সুপারিশপত্র ও আদালতের নথির অনুলিপি রয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement