সংবাদ শিরোনাম

মাদারীপুরে বালুচরে বাদাম চাষে সাফল্য কৃষকের মুখে হাসি

 প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন   |   কৃষি

মাদারীপুরে বালুচরে বাদাম চাষে সাফল্য  কৃষকের মুখে হাসি

মোঃ আর্শাদ হোসেন 

 একসময় পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বালুচর বছরের অধিকাংশ সময় অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সেই অনাবাদি বালুচরেই বাদাম চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন মাদারীপুরের শত শত কৃষক। কম খরচ, তুলনামূলক কম সেচের প্রয়োজন এবং ভালো বাজারদরের কারণে বাদাম চাষ স্থানীয় কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা শেষে নদীর চর জেগে ওঠার পর তারা জমি প্রস্তুত করে বাদামের বীজ বপন করেন। প্রায় ৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয় এবং উৎপাদন প্রায় ১ লাখ টনের কাছাকাছি। দেশের উপকূলীয় ও চরাঞ্চলে বাদাম চাষের সম্ভাবনা দ্রুত বাড়ছে। সরকার অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনতে বিভিন্ন কৃষি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কৃষিবিদরা বলছেন, বাদাম একটি ডালজাতীয় অর্থকরী ফসল। এর শিকড়ে নাইট্রোজেন স্থিরীকরণের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। ফলে একই জমিতে পরবর্তী মৌসুমের ফসলও ভালো উৎপাদন হয়। এছাড়া বাদামে প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ প্রোটিন এবং ৪৫–৫০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর তেল থাকায় এর বাজার চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে।

মাদারীপুরের চরাঞ্চলের কৃষকদের দাবি, সময়মতো উন্নত বীজ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরে এই অঞ্চলে বাদাম চাষ আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে। এতে অনাবাদি বালুচর যেমন উৎপাদনের আওতায় আসবে, তেমনি কৃষকদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নদীভাঙনপ্রবণ ও চরাঞ্চলভিত্তিক জেলাগুলোতে বাদাম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং অনাবাদি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

Advertisement
Advertisement
Advertisement