বিরামপুরের বিশালাকার বিস্ময়: ৩০ মণের ‘দিনাজপুরের মহারাজ’ যেন এক জ্যান্ত হাতি!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খানপুর দক্ষিণ শাহবাজপুর গ্রামের ধুলোমাখা পথ দিয়ে হাঁটলে এখন যে কারও মনে হতে পারে—সামনে কোনো উৎসব চলছে। মানুষের ভিড় ঠেলে খানিকটা এগোলেই চোখে পড়বে কালো-সাদা রঙের এক পাহাড়সম অবয়ব। এটি কোনো বুনো হাতি নয়, বরং আদর-যত্নে বেড়ে ওঠা ফ্রিজিয়ান জাতের এক বিশালাকার ষাঁড়, যার রাজকীয় নাম দেওয়া হয়েছে ‘দিনাজপুরের মহারাজ’।
জন্ম থেকে রাজকীয় আভিজাত্য
পেশায় চালক লুৎফর রহমান আজ থেকে পাঁচ বছর আগে যখন তার নিজের পালিত গাভীর ঘরে এই বাছুরটির জন্ম হতে দেখেন, তখনই বুঝেছিলেন এটি আলাদা। জন্মের পর থেকেই বাছুরটির তেজ আর অবয়ব ছিল সাধারণের চেয়ে ভিন্ন। সেই থেকে শুরু লুৎফর রহমানের এক দীর্ঘ ও পরম মমতার লড়াই। পরম যত্নে বাছুরটিকে বড় করতে শুরু করেন তিনি। আজ সেই মহারাজ ১ হাজার ২০০ কেজি বা ৩০ মণ ওজনের এক অতিকায় প্রাণীতে পরিণত হয়েছে।
মহারাজের এলাহি খানা-পিনা
নামের মতো মহারাজের জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসও রীতিমতো রাজকীয়। তার ডায়েট চার্টে সাধারণ খড় বা ঘাসই শেষ কথা নয়। মালিক লুৎফর রহমানের দেওয়া তথ্যমতে:
দানাদার খাদ্য: অন্তত ৮ থেকে ১০ ধরনের দানাদার খাবারের মিশ্রণ।
ফলমূল: প্রতিদিনের তালিকায় থাকে কলা, আপেল এবং মালটার মতো দামী ফল।
খরচ: প্রতিদিন তার পেছনে ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার টাকা। গত পাঁচ বছরে মহারাজকে তৈরি করতে লুৎফর রহমানের খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।
লুৎফর রহমানের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম বাবু আবেগী কণ্ঠে বলেন, "মহারাজ আমাদের কাছে শুধু একটি পশু নয়, ও আমাদের পরিবারের সন্তানের মতো।"
কোরবানির হাটে লক্ষ্য ২০ লাখ
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মহারাজকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লুৎফর রহমান। বিশাল এই মহারাজের দাম হাঁকাচ্ছেন ২০ লাখ টাকা। বিশালাকার এই প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন। কেউ আসছেন দূর-দূরান্ত থেকে অবাক চোখে দেখতে, কেউবা স্মৃতি হিসেবে মহারাজের সঙ্গে তুলছেন সেলফি।