কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত: ফের রক্তাক্ত সীমান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
দেশের সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের জোরালো আহ্বানের মধ্যেই ফের রক্ত ঝরল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মোরছালিন (২৭) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
নিহত মোরছালিন কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার খেবজু মিয়ার ছেলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামবাসী ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাতানবাড়ি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মোরছালিন সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসময় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলসাগর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। পরে বিএসএফ সদস্যরা নিহতের মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সামিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিজিবি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।"
অন্যদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে এবং নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া হিসেবে বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সীমান্ত হত্যা ও উদ্বেগের চিত্র
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গত কয়েক মাসে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে "নন-লেথাল ওয়েপন" বা অ-মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
বাতানবাড়ি এলাকার বাসিন্দারা জানান, সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। মোরছালিনের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার এখন দিশেহারা। তারা এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং মরদেহ দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া: বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে বিএসএফের কাছ থেকে মরদেহ হস্তান্তরের জন্য আলোচনা চলছে। শনিবার বিকেল নাগাদ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।