সংকট ছাপিয়ে সচল ইস্টার্ন রিফাইনারি: আঁধার কেটে ফিরল স্বস্তি

 প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন   |   চট্টগ্রাম

সংকট ছাপিয়ে সচল ইস্টার্ন রিফাইনারি: আঁধার কেটে ফিরল স্বস্তি

​নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম

​মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আর সরবরাহ সংকটের দীর্ঘ ছায়া মাড়িয়ে অবশেষে প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা বাজার পরপরই শোধনাগারটির বিশালাকায় সব যন্ত্রাংশ আবারও সগর্জনে চালু হয়েছে। উত্তাল সমুদ্র আর যুদ্ধের বিভীষিকা এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে আসা এক জাহাজ তেল যেন দেশের জ্বালানি খাতে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি বয়ে এনেছে।

​যেভাবে কাটল অচলাবস্থা

​গল্পটা শুরু হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েলের চালান বন্দরে ভেড়েনি। ফলে তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে নিথর হয়ে পড়ে ইআরএলের ডিস্টিলেশন ইউনিট। কিন্তু গত বুধবার দুপুরে কুতুবদিয়া চ্যানেলে যখন বিশালাকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’ নোঙর করল, তখনই চিত্র পাল্টে যেতে শুরু করে। প্রায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়।

​২৪৯.৯৫ মিটার লম্বা এই দানবীয় জাহাজটি কর্ণফুলী নদীর গভীরতা সংকটের কারণে সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারেনি। ফলে ছোট ছোট ট্যাংকারে করে তেল খালাস বা ‘লাইটারিং’ প্রক্রিয়ায় তা ইআরএলে পৌঁছানো হয়। তেল আসার সবুজ সংকেত পেতেই আজ সকালে ফের চালু করা হয় পরিশোধন প্রক্রিয়া।

​জ্বালানি নিরাপত্তার এক স্তম্ভ

​ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, জাহাজ থেকে তেল খালাস শুরু হওয়ার পরপরই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে সংকটের মেঘ পুরোপুরি কাটেনি। একদিকে যখন ‘এমটি নিনেমিয়া’ আশার আলো দেখাচ্ছে, তখন অন্যদিকে ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের অপর একটি জাহাজ বিপিসির এক লাখ টন তেল নিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে। এই দোলাচলের মধ্যেই ইআরএল তার সক্ষমতা দিয়ে দেশের চাহিদার হাল ধরেছে।

​দেশের জ্বালানি মানচিত্রে ইআরএল

​বার্ষিক প্রায় ১৫ লাখ টন তেল শোধনের সক্ষমতা সম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ একাই সামাল দেয়। বিশেষ করে কৃষি ও পরিবহনের প্রাণশক্তি ডিজেল থেকে শুরু করে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলের বিশাল জোগান আসে এখান থেকেই। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশজুড়ে প্রায় ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেলের যে বিশাল বিক্রি হয়েছে, তাতে ইআরএলের অবদান অনস্বীকার্য।

​আপাতত ইস্টার্ন রিফাইনারির এই সচল হওয়া কেবল যান্ত্রিক পুনরাগমন নয়, বরং দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার মুখে এক বড় জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement