চবিতে আন্তর্জাতিক কর্মশালা: আবেগ আর তথ্যের দ্বন্দ্বে পথ দেখাবে ‘মিডিয়া লিটারেসি’
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
তথ্যপ্রযুক্তির এই উত্তাল সময়ে তথ্যের ভারে মানুষ যখন ভারাক্রান্ত, তখন সঠিক সংবাদ চিনে নেওয়ার পথ বাতলে দিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সম্পন্ন হলো এক বিশেষ আন্তর্জাতিক কর্মশালা। বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সেমিনার কক্ষে বুধবার (৬ মে) দিনব্যাপী ‘সোশ্যাল ইমোশনাল লার্নিং অ্যান্ড মিডিয়া লিটারেসি’ শীর্ষক এই আয়োজনে উঠে আসে বর্তমান সময়ের এক অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা—আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা ও গণমাধ্যম সচেতনতা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন তার কণ্ঠে ছিল আগামীর সাংবাদিকদের জন্য দিকনির্দেশনা। তিনি অত্যন্ত জীবনমুখী এক দর্শনের অবতারণা করে বলেন, জীবনের কঠিনতম সিদ্ধান্তগুলোতে আবেগ আর বাস্তবতার সঠিক সমন্বয় হওয়া চাই। তার মতে, আলোচনার মাধ্যমেই পৃথিবীর যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং কোনো বাধাই যেন কাজের গতিপথকে থামিয়ে দিতে না পারে।
ভারতের সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. অম্বরীশ সাক্সেনা এবং ইউনেস্কো এমজিআইইপির ন্যাশনাল প্রজেক্ট অফিসার ড. রিচা বানসাল বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিখিয়েছেন তথ্য যাচাই ও মানসিক স্থিরতার কলাকৌশল। তারা জোর দিয়ে বলেন, আজকের যুগে কেবল তথ্য জানলেই চলে না, বরং সংবাদের পেছনের উদ্দেশ্য বোঝা এবং মানসিকভাবে স্থিতিশীল থেকে তা গ্রহণ করার দক্ষতা অর্জন করা শিক্ষার্থীদের জন্য এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন নীপুর সভাপতিত্বে এবং সহযোগী অধ্যাপক রাজীব নন্দীর সঞ্চালনায় এই আসরটি যেন পরিণত হয়েছিল এক প্রাণবন্ত সংলাপে। সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ও ইউনেস্কোর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালাটি তরুণ প্রজন্মের মাঝে নৈতিক সাংবাদিকতা এবং দায়িত্বশীলতার বীজ বপন করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাংবাদিকতার প্রথাগত পাঠের বাইরে গিয়ে মানুষের মনোজগত আর প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানোই ছিল এই জমকালো আন্তর্জাতিক আয়োজনের মূল সুর।