চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল–শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

 প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন   |   চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল–শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

ডেক্স নিউজ:

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতি লেখা কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সংঘর্ষে অংশ নেওয়া কর্মীদের হাতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দেখা যায়, ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতিতে আগে লেখা ছিল—‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সোমবার রাতে ছাত্রদলের কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী সেখানে গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেন এবং তার পরিবর্তে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে তারা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয় এবং সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

দুপুরের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পরে ছাত্রশিবির একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে আবার উত্তেজনা ছড়ায়। বিকেল চারটার দিকে নিউমার্কেট মোড় থেকে শিবিরের মিছিল কলেজের দিকে অগ্রসর হলে সিটি কলেজের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ধাওয়া দিলে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। দুই পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ শাখার প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম দাবি করেন, তাঁদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আশরাফ হোসেন নামের এক কর্মীর গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, “গ্রাফিতি মুছে ‘গুপ্ত’ লেখা হয়েছে। তারা যদি গুপ্ত না হয়, তাহলে তাদের কেন গায়ে লাগল?”

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম জানান, সামি মো. আলাউদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে মাথায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন বলেন, “এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।”

উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রাম নাইট কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল উভয়ই সক্রিয় হয়ে ওঠে। ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বই এ সংঘর্ষের পেছনে মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement