আমানতের আর্তনাদ: নিজের টাকা পেতে রাজপথে লড়ছেন চট্টগ্রামের গ্রাহকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | ৬ মে, ২০২৬
নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জনের টাকা ব্যাংকে রেখে এখন সেই টাকার জন্যই রাজপথে নামতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বুধবার সকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাতাস প্রকম্পিত হয়েছে শত শত আমানতকারীর ক্ষুব্ধ স্লোগানে। ‘আমার টাকা ফেরত চাই’, ‘হেয়ার কাট মানি না’—এমন সব দাবির ঝংকারে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে ফুটে উঠেছে মধ্যবিত্ত ও প্রবাসীদের বুকফাটা হাহাকার। তারল্য সংকট আর অনিয়মের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের—এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক—গ্রাহকরা আজ দিশেহারা। দীর্ঘদিন ধরে নিজের জমানো টাকা তুলতে না পেরে অনেকেরই জীবনযাত্রা থমকে গেছে। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা, অথচ কোরবানির পশু কেনার সামর্থ্যটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন অনেক সামর্থ্যবান আমানতকারী।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া সৌদি প্রবাসী হেফাজ উদ্দিনের কণ্ঠে ছিল ২৫ বছরের প্রবাস জীবনের দীর্ঘশ্বাস। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো বিদেশে বিলিয়ে দিয়ে যে অর্থ দেশে সঞ্চয় করেছিলেন, আজ তা এক-দুই হাজার টাকা করে ভিক্ষার মতো নিতে হচ্ছে। এই অনিশ্চয়তা আর ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতির মাধ্যমে আমানত কর্তনের আশঙ্কা মানতে নারাজ চট্টগ্রামের এই বিক্ষুব্ধ জনতা।
আন্দোলনকারীদের দাবি স্পষ্ট—আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে এবং টাকা উত্তোলনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সব সীমাবদ্ধতা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আমানতকারীরা সামনে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আগ্রাবাদ ও খাতুনগঞ্জের পর আজকের এই কর্মসূচি যেন প্রমাণ করল, গ্রাহকদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। ব্যাংকিং খাতে হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর ও দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা।