​সীমান্তে সুড়ঙ্গ, বাজারে ধস: কোরবানির আগে ‘চোরাই’ মসলায় সয়লাব খাতুনগঞ্জ

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন   |   চট্টগ্রাম

​সীমান্তে সুড়ঙ্গ, বাজারে ধস: কোরবানির আগে ‘চোরাই’ মসলায় সয়লাব খাতুনগঞ্জ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

​কোরবানির ঈদ দোরগোড়ায়। সাধারণ সময়ে এই মৌসুমে মসলার বাজারে আগুনের আঁচ থাকার কথা থাকলেও এবার চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বৈধ পথে মসলা আমদানি কমেছে রেকর্ড ২৫ শতাংশ, অথচ পাইকারি বাজারে দাম কমছে হুড়মুড় করে। আমদানিকারকরা বলছেন, এই রহস্যের মূলে রয়েছে সীমান্ত দিয়ে আসা ‘চোরাই’ মসলার ঢল। ভারত থেকে অবৈধ পথে চাহিদার অতিরিক্ত মসলা দেশে ঢুকে পড়ায় টালমাটাল হয়ে পড়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী পাইকারি বাজারগুলো।

​সপ্তাহের ব্যবধানে খাতুনগঞ্জের পাইকারি আড়তগুলোতে দেখা গেছে দাম কমার হিড়িক। যে এলাচ গত সপ্তাহেও বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ১০০ টাকায়, তা এখন ২০০ টাকা কমে ৩ হাজার ৯০০ টাকায় নেমেছে। লবঙ্গের দাম কেজিতে ৫০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। এছাড়া জিরা ৫৩০ টাকা ও গোল মরিচ ১ হাজার ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​এই দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর হলেও দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ব্যবসায়ীদের কপালে। বাংলাদেশ পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট অমর কান্তি দাশের কণ্ঠে ঝরল হাহাকার। তিনি জানালেন, ব্যবসায়ীদের হাতে এখন এলসি করার মতো পর্যাপ্ত মূলধন নেই। একদিকে উচ্চমূল্যে পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে, অন্যদিকে চোরাই পথের সস্তা পণ্যের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে স্টক। আমদানিকারকদের প্রশ্ন—এভাবে কতদিন লোকসান গুনে টিকে থাকা সম্ভব?

​চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিরা, লবঙ্গ, এলাচ ও জয়ফলের মতো প্রধান মসলাগুলোর আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমেছে। যদিও কাস্টমস কর্মকর্তারা দাবি করছেন, সংকট হবে না। কারণ হিসেবে তারা অন্যান্য বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত আমদানির কথা বলছেন।

​তবে মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ভিন্ন। খাতুনগঞ্জের আমেনা ট্রেডার্সের মালিক নূরুল আজিম মুন্না ও আইমন এন্টারপ্রাইজের মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের মতো ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থলবন্দর দিয়ে এলসির মাধ্যমে আসা পণ্যের চেয়ে সীমান্ত দিয়ে লুকিয়ে আসা পণ্যের পরিমাণ এখন বেশি। ভারত থেকে অবৈধ পথে জিরা, গোল মরিচ ও এলাচ ঢুকছে দেদারসে। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ আমদানিকারকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।

​ইন্দোনেশিয়া, চীন ও ভিয়েতনাম থেকে আসা লবঙ্গ বা দারুচিনিও এখন ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে আসা পণ্যের চাপে কোণঠাসা। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে মসলার যে কৃত্রিম জোয়ার তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের বৈধ বাণিজ্য কাঠামোকে পঙ্গু করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement