পরীক্ষার আগেই না ফেরার দেশে তন্ময়: বেগমগঞ্জে অটোরিকশার কেড়ে নিল প্রাণ, রণক্ষেত্র মহাসড়ক

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন   |   চট্টগ্রাম

পরীক্ষার আগেই না ফেরার দেশে তন্ময়: বেগমগঞ্জে অটোরিকশার কেড়ে নিল প্রাণ, রণক্ষেত্র মহাসড়ক

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী 

মানুষের স্বপ্নগুলো কত দ্রুত ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে, তার এক করুণ সাক্ষী হয়ে রইল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ। পকেটে হয়তো ছিল পরীক্ষার প্রবেশপত্র কিংবা বুকভরা আত্মবিশ্বাস, কিন্তু ঘাতক অটোরিকশার বেপরোয়া গতি থামিয়ে দিল এক কিশোরের জীবনঘড়ি। বুধবার বেলা ১১টার দিকে বেগমগঞ্জ কৃষি ইনস্টিটিউটের সামনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী তন্ময় চন্দ্র।

​সকালের সূর্যটা অন্যদিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল তন্ময়ের কাছে। বাসা থেকে বন্ধু দীপ দেবনাথের সাথে বের হয়েছিলেন জীবনের কোনো এক সাধারণ প্রয়োজনে। কিন্তু চৌমুহনী চৌরাস্তা-মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হওয়ার সময় আচমকাই যেন যমদূত হয়ে আছড়ে পড়ে একটি দ্রুতগতির সিএনজিচালিত অটোরিকশা। মুহূর্তেই রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। স্থানীয়রা দ্রুত দুই বন্ধুকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তন্ময়ের অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পথে রওনা করা হলেও শেষ রক্ষা আর হয়নি। পথিমধ্যেই দুপুর আড়াইটার দিকে নিভে যায় এক সম্ভাবনাময় প্রদীপ।

​তন্ময় নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুরিপাড়া এলাকার কার্তিক চন্দ্রের ছেলে। ডেল্টা জুটমিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এই মেধাবী ছাত্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। সহপাঠীর এমন অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারেনি ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। দুপুরের পর থেকেই স্থানীয় জনতাকে সাথে নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে তারা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধে সড়কের দুই পাশে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট, স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন।

​বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত দীপ দেবনাথ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই ঘাতক অটোরিকশাচালক পালিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। শোকাতুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।

​তন্ময় হয়তো কাল পরীক্ষায় বসত, কলম চলত তার নতুন ভবিষ্যতের টানে। কিন্তু একটি বেপরোয়া অটোরিকশা আজ সব হিসাব ওলটপালট করে দিল। বিদ্যালয়ের আঙিনা আজ স্তব্ধ, আর কুরিপাড়ার কার্তিক চন্দ্রের ঘরে আজ কেবলই বুকফাটা হাহাকার।

Advertisement
Advertisement
Advertisement