পশুর সেবায় যে বিবাদ, তার শেষ হলো মানুষের রক্তে: বিশ্বম্ভরপুরে পৈশাচিক হামলার শিকার তৌফিক

 প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

পশুর সেবায় যে বিবাদ, তার শেষ হলো মানুষের রক্তে: বিশ্বম্ভরপুরে পৈশাচিক হামলার শিকার তৌফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ 

সামান্য ঘাস খাওয়ানো আর পাহারার দায়িত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া বিবাদ যে এমন বীভৎস রূপ নিতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের বাসিন্দারা। কোরবানির গরু নিয়ে ছোটোখাটো এক মান-অভিমান শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও নৃশংসতায় রূপ নিয়েছে। প্রতিপক্ষের ধারালো ছুরির আঘাতে এখন হাসপাতালের বিছানায় জীবনের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তৌফিক আহমদ (৩২) নামের এক যুবক।

​ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (৮ মে) রাতে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে। তৌফিক আহমদ ওই ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন মেম্বারের ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক।

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তৌফিক ও তার প্রতিপক্ষরা মিলে একটি ভাগে গরু ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু গরুটি কার বাড়িতে রাখা হবে এবং কে তার ঘাস-পানির দেখভাল করবে, এ নিয়ে গত ৭ মার্চ উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। সে সময় বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে মনে হলেও প্রতিপক্ষের মনে জমে ছিল চরম প্রতিহিংসা।

​সেই ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়ে শুক্রবার রাতে। তৌফিক আহমদ স্থানীয় ফতেহপুর বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সদাই কিনে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত যখন সাড়ে ৯টা, চারপাশ কিছুটা নির্জন হয়ে আসতেই ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে। অন্ধকার সড়কের এক নিভৃত স্থানে তাকে লক্ষ্য করে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের দাবি, হামলাকারীরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে তার পেটে আঘাত করলে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

​পরে পথচারী ও স্বজনরা আর্তচিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিরুপম রায় চৌধুরী তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত সিলেটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

​চিকিৎসক জানান, তৌফিকের ক্ষত অত্যন্ত গভীর এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার জীবন বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচার ও প্রচুর রক্তের প্রয়োজন। বর্তমানে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

​এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। তিন সন্তানের জনকের ওপর এমন পৈশাচিক হামলায় গ্রামজুড়ে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তুচ্ছ একটি পশুকে কেন্দ্র করে মানুষের জানমালের ওপর এমন হামলা সামাজিক অস্থিরতা ও চরম অসহিষ্ণুতারই এক করুণ প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement