খালেদা জিয়ার স্মৃতিতে প্রবাসীদের শ্রদ্ধা: মির্জা ফখরুল ও তামিমসহ ১৫ জন পাচ্ছেন স্বর্ণপদক

 প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

খালেদা জিয়ার স্মৃতিতে প্রবাসীদের শ্রদ্ধা: মির্জা ফখরুল ও তামিমসহ ১৫ জন পাচ্ছেন স্বর্ণপদক

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​ভোরের কুয়াশা মোড়ানো নরম আলোয় নয়, বরং বিকেলের রক্তিম আভার মতোই এক গভীর আবেগঘন সংবাদে মুখরিত আজ রাজধানী। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অবিনাশী নাম বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর সেই চিরচেনা ‘আপসহীন’ আপ্তবাক্যকে ধারণ করে এবার প্রবর্তিত হলো এক অনন্য সম্মাননা। সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপার থেকে আসা এক ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ লড়াই, ত্যাগ আর সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০২৬’–এ ভূষিত হলেন বিএনপি মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দেশের ১৫ জন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব।

​নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রবাসী নাগরিক কমিটি, ইনক’ এই বিশেষ পুরস্কারের প্রবর্তন করেছে। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যখন এই নামগুলো ঘোষিত হয়, তখন তা কেবল একটি পুরস্কারের তালিকা থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন খাতে অবদান রাখা একঝাঁক নক্ষত্রের মিলনমেলা।

​স্মৃতি আর শ্রদ্ধার মেলবন্ধনে গাঁথা এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথে যার পদচারণা আজ প্রবাদপ্রতিম, তাঁর এই প্রাপ্তি যেন এক দীর্ঘ সংগ্রামেরই প্রতিফলন। তাঁর সাথে এই অনন্য গৌরবে ভাগীদার হয়েছেন বর্তমান মন্ত্রিসভার আরও দুই প্রভাবশালী সদস্য—বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা আর জাতীয় সংকটে অবিচল থাকবার গুণটিকেই যেন কুর্নিশ জানিয়েছে প্রবাসী এই সংগঠনটি।

​তবে এই সম্মাননা কেবল রাজনীতির বৃত্তে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রবাসীদের এই আয়োজনে উঠে এসেছে খেলার মাঠ থেকে শুরু করে সাহিত্যের অন্দরমহল পর্যন্ত। ক্রিকেট মাঠের ড্যাশিং ওপেনার ও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল যখন এই তালিকায় যুক্ত হন, তখন তা এক ভিন্ন মাত্রা পায়। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর ত্যাগ আর নেতৃত্বের স্বীকৃতি মিলল এই স্বর্ণপদকের মাধ্যমে। গুম হওয়া স্বজনদের আর্তনাদ নিয়ে গঠিত ‘মায়ের ডাক’-এর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর সানজিদা ইসলাম তুলীর নাম ঘোষণা করে সংগঠনটি প্রমাণ করেছে যে, মানবিক অধিকার আদায়ের লড়াই কখনো বৃথা যায় না।

​গল্পের মতো সাজানো এই তালিকায় আরও রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল জবিউল্লাহ ও মাহদী আমিনের মতো প্রাজ্ঞ উপদেষ্টা। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের তারুণ্যদীপ্ত নেতৃত্ব আর সাংবাদিকতার মহীরুহ কামাল উদ্দিন সবুজের কলম—সবই আজ এই পদকের আভায় উজ্জ্বল। সাহিত্যের আঙিনায় ড. মাহবুব হাসান ও কবি আবদুল হাই শিকদারের শব্দশৈলী এবং সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের বস্তুনিষ্ঠতা এই আয়োজনকে করেছে ঋদ্ধ। বাদ যাননি শিল্প-বাণিজ্যের পুরোধা ড. আবুল কাশেম হায়দার ও আবদুল হক। আর তালিকায় সবচেয়ে আবেগপ্রবণ নামটি সম্ভবত ফাতেমা বেগম, যিনি বছরের পর বছর ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন বেগম জিয়াকে।

​বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিবছরই দেশের তরে নিবেদিতপ্রাণ গুণীজনদের খুঁজে বের করে এই সম্মাননা দেবে প্রবাসীরা। এই পুরস্কার কেবল একটি স্বর্ণপদক নয়; বরং এটি হলো প্রিয় নেত্রীর আদর্শকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার এক শৈল্পিক মাধ্যম। মহাসাগর পাড়ি দিয়ে আসা এই ভালোবাসা যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে—বিস্মৃতি নয়, বরং কর্মের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকে ইতিহাস। আগামী মাসেই এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে এই স্বর্ণপদক তুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement