বেকারত্বে বিপর্যস্ত কয়রা, টিটিসি স্থাপনের দাবিতে সোচ্চার জনপদ
মাসুদ আল হাসান, খুলনা :
খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় বাড়ছে বেকারত্বের চাপ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এ জনপদে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের দাবি জোরালো হয়েছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা উপজেলা ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার কারণে কৃষি ও মৎস্য খাত বারবার ক্ষতির মুখে পড়ে। ফলে বহু পরিবার জীবিকার সংকটে পড়ে মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে ইটভাটা ও উপকূলীয় বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণ সমাজ হতাশায় ভুগছে এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উপজেলায় সরকারি কোনো কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকায় উচ্চশিক্ষিত তরুণরাও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের পথও সংকুচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো কয়রা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি জিএম মোনায়েম বলেন, কর্মসংস্থানের অভাব এখন মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়ন কাজে দক্ষ চালক ও প্রযুক্তিগত কর্মী বাইরে থেকে আনতে হয়। স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন কাজের গতি বাড়বে।
কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, জীবিকার সংকটে প্রতিবছর বহু মানুষ এলাকা ছাড়ছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবার ও শিক্ষাব্যবস্থায়।
কয়রা উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে উপকূলীয় এলাকায় টিটিসি প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।