খুলনা ওয়াসার আলোচিত প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামের পিডির রুটিন দায়িত্ব বাতিল

 প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন   |   খুলনা

খুলনা ওয়াসার আলোচিত প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামের পিডির রুটিন দায়িত্ব বাতিল

খুলনা ব্যুরো :

অবশেষে খুলনা ওয়াসার আলোচিত প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলামের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দেওয়া রুটিন দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানা যায়।

তার এই নিয়োগ বাতিল হওয়ায় খুলনা ওয়াসায় স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হলেও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এখনো শঙ্কা কাটেনি। কারণ, খুলনা ওয়াসা ভবনে গুঞ্জন রয়েছে— তিনি পুনরায় পিডি পদ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী ঘরানার এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনকভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাকে খুলনা ওয়াসার প্রায় ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ের “খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২”-এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়ার পদত্যাগের পর শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম এবং খুলনা ওয়াসার ছাত্র প্রতিনিধি ইব্রাহিম খলিলের ভূমিকা এতে ছিল।

মোঃ রেজাউল ইসলাম অতীতে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ব্যানারে আইবি নির্বাচনে অংশ নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি প্রকল্প পরিচালক পদ পাওয়ার জন্য ছাত্র সমন্বয়কদের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও তদবির করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে উপসচিব ইবাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে প্রকল্প পরিচালকের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়।


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, খুলনা ওয়াসার বর্তমান দুই বোর্ড সদস্য তার পক্ষে বিভিন্ন স্থানে তদবির করেন। বিশেষ করে বোর্ড সদস্য ইব্রাহিম খলিল অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে লিয়াজোঁ করেছেন বলে অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন।

এছাড়া দাবি করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বর্তমান এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম খুলনায় এসে সরাসরি ফাইল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অনলাইনের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করেন। সে সময় বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং অনৈতিক সুবিধা ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পে দীর্ঘদিন পিডি না থাকায় তড়িঘড়ি করে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে বিধি অনুযায়ী এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে সাধারণত ৪র্থ গ্রেডের কর্মকর্তা প্রয়োজন হলেও ৬ষ্ঠ গ্রেডের একজন প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এদিকে রুটিন দায়িত্ব বাতিল হলেও প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প পরিচালক পদ পেতে আবারও তদবির শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি নিজেও দাবি করেছেন, শিগগিরই পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বৃহৎ দাতা সংস্থার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ ধরনের প্রকল্প পরিচালনায় মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ ওয়াসার জোনাল অফিসে দায়িত্ব পালন ছাড়া বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকায় তাকে পিডি করা হলে প্রকল্প ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement