পরিকল্পনা ছাড়া উন্নয়ন জনভোগান্তির কারণ হয়: কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু

 প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন   |   খুলনা

পরিকল্পনা ছাড়া উন্নয়ন জনভোগান্তির কারণ হয়: কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু

খুলনা ব্যুরো :

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ছাড়া বাস্তবায়িত উন্নয়ন একসময় জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উন্নয়ন জনগণের জন্য এবং জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত হয় বলে উন্নয়ন কার্যক্রমের আগে পরিকল্পনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “নগর সংকট ও সাড়াদান: প্রেক্ষাপট—খুলনা জেলার কৌশলগত পরিকল্পনা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, কৌশলগত পরিকল্পনা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও দূরদর্শী স্থানিক পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে বর্তমান নগর সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার রূপরেখা তৈরি করা হয়। আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরে একটি শহরের অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কেমন হবে—তার সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়নই এ পরিকল্পনার লক্ষ্য।

বক্তারা আরও বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, যানজট, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো নগর সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকিও এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

সেমিনারে জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ খুলনা অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার মতো ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এসব পরিস্থিতিতে নগরের অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।

কেসিসি প্রশাসক বলেন, উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গে পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটাতে পারলে উন্নত শহরের মতো নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আরও আলোচনা সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর খুলনার সিনিয়র প্ল্যানার প্রভাষ চন্দ্র কুন্ডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ ও প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement