মে মাসে জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির বার্তা, ডিজেল ঘাটতি কাটবে জরুরি চালানে
ডেক্স নিউজ:
দেশে মে মাসে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও সরকার জানিয়েছে, পরিকল্পিত আমদানি ও বিদ্যমান মজুতের মাধ্যমে দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মে মাসে ডিজেলের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার টন। বর্তমানে মজুত রয়েছে ২ লাখ ৮৯ হাজার টন, যা মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় ৮১ হাজার টন কম। তবে মে মাসের মধ্যেই আরও ৩ লাখ ২৯ হাজার টন ডিজেল আমদানি হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জাহাজসমূহ সময়মতো দেশে পৌঁছালে সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে অকটেনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ইতিবাচক। মে মাসে অকটেনের চাহিদা ৩৭ হাজার টন হলেও বর্তমানে মজুত রয়েছে ৪২ হাজার ৯৩৩ টন। এর সঙ্গে স্থানীয় পরিশোধনাগার থেকে ২৪ হাজার টন এবং আমদানির মাধ্যমে আরও ২৬ হাজার টন যুক্ত হবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে তেলবাহী জাহাজগুলো পৌঁছালে মে মাসেও কোনো সংকটের সম্ভাবনা নেই।”
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চীন ও সিঙ্গাপুর থেকেও পরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের বিকল্প উৎসও যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে অবৈধ জ্বালানি মজুত রোধে মার্চ মাস থেকে দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টির বেশি অভিযানে ৫ লাখ ৭৬ হাজার লিটারের বেশি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোথাও কোথাও আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতাই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণ হচ্ছে। তারা সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিতরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সরকার বলছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি, সীমান্ত টহল এবং পাম্প পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।