খুলনা ওয়াসার ৫৫০ কোটি টাকার প্রকল্পে দরপত্র অনিয়মের অভিযোগ
খুলনা ব্যুরো :
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা)-এর প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
যোগ্যতা ও মূল্যায়ন মানদণ্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।প্রকল্পটির আওতায় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক নির্মাণ, ডিস্ট্রিক্ট মিটারড এরিয়া (ডিএমএ) স্থাপন এবং সম্প্রসারিত এলাকায় মিটার সংযোগ প্রদান করা হবে। গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে এ প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পে সর্বোচ্চ পাইপলাইনের ব্যাস ৫০০ মিলিমিটার হলেও দরদাতাদের ১,০০০ মিলিমিটার পাইপলাইন নির্মাণ কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই শর্ত প্রকল্পের প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি এবং এতে প্রতিযোগিতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দরপত্র নথিতে পাইপ ও ফিটিংস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য কমপক্ষে ১,০০০ মিলিমিটার পাইপ উৎপাদনের অভিজ্ঞতা এবং ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে খুব কম প্রতিষ্ঠান এসব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠোর যোগ্যতা শর্ত উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা কমিয়ে প্রকল্প ব্যয় বাড়াতে পারে এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা ছাড়া মন্তব্য করা সম্ভব নয়। উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা জানান, তিনি দরপত্র প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন না।
তবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খান সেলিম আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঠিকাদার সীমিত করার জন্য নয়, পাইপের মান নিশ্চিত করতেই শর্তগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দরপত্রের শর্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।