কুয়েটে নববর্ষের বর্ণিল আয়োজন, আনন্দে মুখর পুরো ক্যাম্পাস

 প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন   |   খুলনা

কুয়েটে নববর্ষের বর্ণিল আয়োজন, আনন্দে মুখর পুরো ক্যাম্পাস

মাসুদ আল হাসান, খুলনা ব্যুরো :

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণের উচ্ছ্বাস, ঐতিহ্যের আবহ এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির বার্তা।

সকালে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে ‘বৈশাখী উৎসব-১৪৩৩’-এর উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। উদ্বোধনের পর বর্ষবরণ সংগীতের সুরে মুখরিত হয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। পরে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও আশপাশের এলাকায় প্রদক্ষিণ করে।

শোভাযাত্রা শেষে খেলার মাঠে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে স্টল সাজান, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

দিনভর মেলা প্রাঙ্গণে চলে নানা আয়োজন—সার্কাস, বাউল সংগীত, ম্যাজিক শো, ঘুড়ি উৎসব, নাগরদোলা, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকি, মোরগ লড়াইসহ গ্রামবাংলার চিরচেনা বিনোদনের নানান উপকরণ। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী দড়ি টানাটানি ও হাড়িভাঙা প্রতিযোগিতাও উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে তোলে।

বিকেলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শোভাযাত্রায় প্রথম স্থান অর্জন করে ফজলুল হক হল, দ্বিতীয় রোকেয়া হল এবং তৃতীয় লালন শাহ হল। আলপনা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় লালন শাহ হল, দ্বিতীয় রোকেয়া হল এবং তৃতীয় খানজাহান আলী হল। মেলায় সেরা স্টলের স্বীকৃতি পায় শহীদ স্মৃতি হল।

ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক—যা নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতি পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই এবারের আয়োজন সফল ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

দিনশেষে কুয়েট ক্যাম্পাসে থেকে যায় বৈশাখের রঙে ভেজা আনন্দ, ঐতিহ্য আর সৌহার্দ্যের উজ্জ্বল ছাপ।