সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে জিরো টলারেন্স: ১৮ মাসে ৬১ দস্যু আটক, উদ্ধার ৮১ অস্ত্র ও অপহৃত জেলে-পর্যটক
খুলনা ব্যুরো :
সুন্দরবনে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে চলমান অভিযানে গত ১৮ মাসে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, জাহাঙ্গীর ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। এসময় ৮১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি অপহৃত ৭৮ জন জেলে ও তিনজন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।
অভিযান চলাকালে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় দস্যুদের আস্তানা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অভিযান চালিয়ে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে এবং ২৯ জন হরিণ শিকারিকে আটক করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে।
ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি কিছু নতুন দস্যু বাহিনী আবার সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় এসব দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই অভিযানের মূল লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি ও দ্রুতগতির টহল বোট ব্যবহার করে নদ-নদীতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত না করা পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।