কালীগঞ্জে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ‘স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপে' কমেছে ভিড় ও অনিয়ম

 প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন   |   খুলনা

কালীগঞ্জে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ‘স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপে' কমেছে ভিড় ও অনিয়ম

মাসুদ আল হাসান, খুলনা ব্যুরো :

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিয়ম ও জনদুর্ভোগ নিয়ন্ত্রণে চালু করা হয়েছে ‘স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপ’। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের ফলে একই মোটরসাইকেলের একাধিকবার তেল নেওয়া শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

এর আগে দেখা যায়, অনেক বাইকার একই দিনে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে বারবার তেল সংগ্রহ করতেন। এতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পেতেন না। অভিযোগ ছিল, কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করতেন।

তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশন এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরাও হেনস্তার শিকার হন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় কালীগঞ্জের তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা শেখ ওবায়দুল হক রাসেলের উদ্যোগে উদ্ভাবিত হয় ‘স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপ’। গত ৭ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের উপস্থিতিতে কোটচাঁদপুর সড়কের একটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপটির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অ্যাপটি চালু করা হয়েছে।

অ্যাপটির মাধ্যমে মোটরসাইকেলের নাম্বার প্লেট স্ক্যান করে তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। নাম্বার প্লেট না থাকলে ইঞ্জিন নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলকে নির্ধারিত পরিমাণ ৫০০ টাকার পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে। একবার তেল নেওয়ার পর ৯৬ ঘণ্টার আগে পুনরায় তেল নেওয়া যাচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ তেল নিতে এলে স্ক্যানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, ইতোমধ্যে শতাধিক বাইকারকে একাধিকবার তেল নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রথমবার সতর্ক করা হলেও পুনরাবৃত্তি ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাইকার সেলিম খান বলেন, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যেত না। এখন দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে। বাইকার শেখ ফরিদ বলেন, আগে কিছু মানুষ অতিরিক্ত তেল মজুদ করায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়তেন, এখন সেই সুযোগ বন্ধ হয়েছে।

অ্যাপটির উদ্ভাবক শেখ ওবায়দুল হক রাসেল বলেন, জ্বালানি সংকটের সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং অসাধু চক্র প্রতিরোধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, অ্যাপ চালুর ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং করছে এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাউকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। ভবিষ্যতে উদ্যোগটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement