সরকারি ঘোষণা ছাড়াই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি----- খুলনায় এলপি সিলিন্ডারে বাড়তি ৪০০ টাকা, বিপাকে ক্রেতা
মাসুদ আল হাসান ,খুলনা ব্যুরো:
খুলনায় হঠাৎ করেই এলপি গ্যাসের দাম সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে খুচরা বাজারে বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারিত থাকলেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তা ১ হাজার ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও দাম ২ হাজার টাকার কাছাকাছিও পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার এপ্রিল মাসের জন্য নতুন এলপিজি মূল্য ঘোষণা করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই বেসরকারি গ্যাস কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোয় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বুধবার ১ এপ্রিল নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, একদিন আগেও ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও হঠাৎ করেই সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অনেক বিক্রেতা পুরোনো দামে কেনা গ্যাস মজুদ রেখে বিক্রি বন্ধ রেখেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা মিন্টু বলেন, নতুন দাম ঘোষণার কথা বলে অনেক দোকান গ্যাস বিক্রি বন্ধ রেখেছে। কিছু দোকানে অতিরিক্ত ৪০০-৪৫০ টাকা বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে।
দৌলতপুর এলাকার বিসমিল্লাহ টেডার্সের মালিক ফিরোজ আহমেদ জানান, কয়েকদিন ধরে কোম্পানি থেকে গ্যাস সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। আগের মজুদ দিয়েই ব্যবসা চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
দৌলতপুরের নতুন রাস্তা মোড়ের এক বিক্রেতা জানান, কোম্পানি থেকেই বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। ওমেরা গ্যাস ১ হাজার ৮৫০ টাকা এবং সেনা গ্যাস ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ঘোষণা ছাড়াই মূল্য বৃদ্ধির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে খুলনা এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বিশ্ববাজার ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে একযোগে সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ টাকা বৃদ্ধি নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিবৃতিতে দ্রুত গ্যাসের মূল্য পুনঃনির্ধারণ ও বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানানো হয়।