সংবাদ শিরোনাম

মার্চ মাসে সারাদেশে অভিযানে পৌনে ৪ লাখ লিটার অবৈধ মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার

 প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মার্চ মাসে সারাদেশে অভিযানে পৌনে ৪ লাখ লিটার অবৈধ মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার

ঢাকা, ১৯ চৈত্র (২ এপ্রিল):

৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান চালিয়ে অবৈধ মজুতকৃত ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী। আজ সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে পেট্রোল এবং অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত আছে। ডিজেলের ক্ষেত্রেও কোনো সংকট নেই। বর্তমানে সরকারের কাছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন সরবরাহযোগ্য ডিজেল মজুত আছে। তিনি আরো বলেন, প্যানিক বায়িং এখনও বন্ধ হয়নি, যার প্রভাব পড়ছে ফিলিং পাম্পে। অস্বাভাবিক মজুতের প্রবণতাও এর জন্য দায়ী। যথানিয়মে জ্বালানি তেল সরবরাহ চলমান আছে।

যুগ্মসচিব আরো বলেন, সারাদেশে কৃষকদের মাঝে ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের মতো আজও সারাদেশে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইনে মিটিং করা হয়েছে। সেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত আছে বলে ডিসিদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং সারাদেশে কৃষকদের মাঝে চাহিদা মতো ডিজেল প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের নির্দেশনার পর সারাদেশে কৃষকদের মাঝে ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এবং সকল কৃষক প্রয়োজনমতো ডিজেল পাবেন বলে মুখপাত্র আশা প্রকাশ করেন। তিনি কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তিতে কোথাও কোনো অসুবিধা হলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন।

মজুতের প্রবণতা পরিহার করলে জ্বালানির কোনো সংকট থাকবে না বলেও জানান মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার। তাই জনগণের কথা চিন্তা করেই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বিদ্যুতের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এর আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও জ্বালানি বিপনন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা, যমুনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ কঠোর নির্দেশ দেন। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনতে ও অবৈধ মজুতরোধে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালু করাসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।