সংবাদ শিরোনাম

সুন্দরবনে উদ্ধার হওয়া বাঘের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, শিগগিরই অবমুক্তির আশা

 প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন   |   খুলনা

সুন্দরবনে উদ্ধার হওয়া বাঘের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, শিগগিরই অবমুক্তির আশা

মাসুদ আল হাসান, খুলনা ব্যুরো :

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া আহত একটি বাঘের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বর্তমানে বাঘটি খুলনায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

৭ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বন বিভাগ এ তথ্য জানায়। বন বিভাগ জানায়, উদ্ধারকালে বাঘটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। তবে চিকিৎসা শুরুর পর বাঘটি পানি পান ও খাদ্য গ্রহণ শুরু করেছে। একই সঙ্গে তার চলাফেরাও আগের তুলনায় স্বাভাবিক হচ্ছে।

বন বিভাগের ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে বাঘটির সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসক দল খুলনায় এসে বাঘটির শারীরিক অবস্থা সরেজমিনে পরীক্ষা করেছেন।

চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা হলেন—প্রফেসর ড. মো. গোলাম হায়দার, ভেটেরিনারি অনুষদ, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর;

ডা. মো. গোলাম আযম চৌধুরী, প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার, কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার (সিডিআইএল), ঢাকা;

ডা. নাসরুল হুদা, এডিশনাল ভেটেরিনারি অফিসার, সেন্ট্রাল ভেটেরিনারি হাসপাতাল, ঢাকা । এসময় আরও  উপস্থিত ছিলেন ইমরান আহমেদ, বন সংরক্ষক,  খুলনা অঞ্চল (সি এফ), এ জেড এম হাসানুর রহমান ডিএফও পশ্চিম জোন ও রেজাউল করিম চৌধুরী ডিএফও পূর্ব জোন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বাঘটি ফাঁদে আটকে থাকার কারণে সামনের বাম পা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তবে ভাঙ্গেনি বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাঘটি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে এবং তখন তাকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা সম্ভব হবে।

তবে বাঘটি এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। সম্পূর্ণ বন্যপ্রাণী হওয়ায় মানুষের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সে কারণে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসা ও পরিচর্যার কাজ চালানো হচ্ছে।

বন বিভাগ আরও জানায়, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান অনুসরণ করে বাঘটিকে নিরাপদভাবে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে।