মোংলায় নৌযান মালিক শ্রমিকদের ধর্মঘটে বিপাকে পর্যটকরা
মাসুদ আল হাসান, খুলনা ব্যুরো :
মোংলা থেকে সুন্দরবনগামী পর্যটক পরিবহন নৌযানে নৌপরিবহন অধিদপ্তর (ডিজি শিপিং) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হঠাৎ অভিযানের প্রতিবাদে নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। ৫ জানুয়ারি সোমবার সকাল থেকে জালিবোট, ট্রলার ও পর্যটকবাহী সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
নৌযান মালিক সমিতির নেতারা জানান, মোংলা উপজেলা ও বন্দরসংলগ্ন এলাকায় সুন্দরবনের পর্যটক পরিবহনের সঙ্গে প্রায় আড়াই থেকে তিন শতাধিক জালিবোট, ট্রলার ও ডেনিস বোট জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিরাপত্তার অজুহাতে বোট মালিকদের দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছেন এবং লাইসেন্স ও সার্ভের নামে নতুন নতুন কাগজপত্র তৈরির জন্য চাপ দিচ্ছেন।
তাঁদের দাবি, ৪ জানুয়ারি রবিবার বিকেলে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ডিজি শিপিংয়ের কর্মকর্তা ও প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালান। এ সময় বেশ কয়েকটি নৌযানের সোফা, চেয়ার ও ছাউনিসহ মূল্যবান মালামাল ভেঙে ফেলা হয় এবং জোরপূর্বক কেটে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। নৌযান শ্রমিকরা বাধা দিলে তাঁদের গ্রেপ্তার ও মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন মালিকপক্ষ।
এর প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সুন্দরবনের নদ-নদীতে নৌযানের চেনা ইঞ্জিনের শব্দ থেমে গেছে। ঘাটগুলোতে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা রয়েছে শত শত পর্যটকবাহী জালিবোট ও ট্রলার। হঠাৎ এই কর্মবিরতির কারণে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পর্যটকরা জানান, দূরদূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে নৌযান বন্ধ থাকায় তাঁরা সুন্দরবন ভ্রমণ করতে পারছেন না। অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের নেতা মো. সোহাগ বলেন, ডিজি শিপিংয়ের আরোপিত ব্যয়বহুল ও কঠোর শর্ত পূরণ করা নৌযান মালিকদের পক্ষে সম্ভব নয়। হয়রানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।
অন্যদিকে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, সোমবার ভোর থেকে কোনো পর্যটক বা নৌযান সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নৌযানগুলোর উপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। মালিকদের হয়রানি করা তাদের উদ্দেশ্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।