তুচ্ছ ঘটনায় রক্তাক্ত গুলিস্তান: পিঠে বিদ্ধ ছুরি নিয়ে হাসপাতালে দোকান কর্মচারী
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানে সাধারণ এক রোববার সন্ধ্যা মুহূর্তেই পরিণত হলো বিভীষিকায়। ফুলবাড়িয়া সিট সুপার মার্কেটের ভেতরে কাজ করছিলেন ২১ বছর বয়সী তরুণ ইয়ারুল হোসেন। প্রতিদিনের মতো কেনাবেচার ব্যস্ততার মাঝেই সহকর্মী সানির সঙ্গে শুরু হয় সামান্য কথা কাটাকাটি। কিন্তু সেই সামান্য বিতর্ক যে প্রাণঘাতী রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি মার্কেটের অন্য ব্যবসায়ীরা।
তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে সানি একটি ধারালো ছুরি নিয়ে অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইয়ারুলের ওপর। অত্যন্ত নৃশংসভাবে ছুরিটি ইয়ারুলের পিঠে বসিয়ে দেয় সে। আঘাতটি এতটাই জোরালো ছিল যে, ধারালো অস্ত্রটি ইয়ারুলের পিঠের হাড়ের ভেতরে আটকে যায়। আর্তচিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে রক্তে ভিজে যায় দোকানের মেঝে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই যখন থমকে দাঁড়ায়, সেই সুযোগে অভিযুক্ত সানি ভিড়ের মধ্যে মিশে পালিয়ে যায়।
দোকান মালিক মজনু মিয়া জানান, তার ‘সেভেনআপ কালেকশন’ নামক প্রতিষ্ঠানে ইয়ারুল ও সানি দুজনেই কাজ করত। তাদের মধ্যে আগে থেকেই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য ছিল, কিন্তু সেই রেশ ধরে এমন রক্তক্ষয়ী কাণ্ড ঘটবে তা ছিল অভাবনীয়। পিঠে বিদ্ধ ছুরি নিয়েই গুরুতর অবস্থায় ইয়ারুলকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইয়ারুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পিঠের হাড়ের ভেতর ছুরিটি গভীরভাবে গেঁথে থাকায় তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে ছুরিটি বিচ্ছিন্ন করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আহত ইয়ারুল হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে বর্তমানে তিনি পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকায় বসবাস করছিলেন। এদিকে এই ঘটনায় ফুলবাড়িয়া মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্ত সানিকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।