মটকা গরম করবেন না, সামলাইতে পারবেন না’: বাউফলে হুঙ্কার জামায়াত নেতা মাসুদের

 প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন   |   বরিশাল

মটকা গরম করবেন না, সামলাইতে পারবেন না’: বাউফলে হুঙ্কার জামায়াত নেতা মাসুদের

 প্রতিনিধি, পটুয়াখালী :

পটুয়াখালীর বাউফলে এক রাজনৈতিক সভায় নিজের অতীত সাংগঠনিক প্রতিপত্তি ও রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। রাজনৈতিক মাঠে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উল্টাপাল্টা কথা বলে তার ‘মটকা’ গরম না করাই সবার জন্য শ্রেয় হবে, কারণ সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। তার এই আকস্মিক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

​গত শনিবার ৩০ মে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাউফলের স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ও প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. মাসুদ তার ছাত্ররাজনীতির সময়কার দিনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, তা জানতে হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিতে হবে। সেখানকার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীকে জিজ্ঞেস করলেই তার পরিচয় এবং ক্ষমতা সম্পর্কে জানা যাবে। নিজের শক্তি ও সামর্থ্য বাউফলের মানুষকে নতুন করে দেখানোর প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ার করে বলেন, মটকা গরম হলে তার পরিণতি শুভ হবে না।

​বক্তব্যের এক পর্যায়ে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন এই জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, তার পরিচয় ও রাজনৈতিক ওজন কতটা, তা বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভালো করেই জানা ছিল। শেখ হাসিনার কাছে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে শফিকুল ইসলাম মাসুদ আসলে কী জিনিস। সাবেক সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে রাস্তাঘাট, সেতুসহ প্রচুর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছিলেন। উন্নয়ন যদি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একমাত্র হাতিয়ার হতো, তবে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারেরই চিরকাল টিকে থাকার কথা ছিল। কিন্তু বিপুল উন্নয়নের পরও তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষের মনে কোনো শান্তি ও আনন্দ ছিল না। বাহ্যিক উন্নয়ন হলেও জনগণের মৌলিক অধিকার, ভোটের অধিকার এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

​ড. মাসুদ তার দীর্ঘ বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে কেবল রাস্তাঘাট বা দালানকোঠার উন্নয়ন দিয়ে কোনো সরকারই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে না। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য তিনি সমসাময়িক রাজনৈতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানান।

​আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বক্তব্যের গণ্ডি পেরিয়ে এদিন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হন। তিনি সভামঞ্চ থেকে নেমে এসে দীর্ঘ সময় বাউফলের স্থানীয় বাসিন্দাদের সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ এবং এলাকার নানা পুঞ্জীভূত সমস্যার কথা শোনেন। সাধারণ মানুষও তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নাগরিক দুর্ভোগের কথা তার সামনে তুলে ধরেন। ড. মাসুদ অত্যন্ত মনোযোগের সাথে সবার কথা শোনেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে প্রতিটি সমস্যার যৌক্তিক সমাধানের ব্যাপারে জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন।

​একই সাথে এলাকার চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তাঘাটের কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও ঠিকাদারদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। ড. মাসুদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় যেসব উন্নয়ন কাজ হচ্ছে, সেখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম বা লোপাট সহ্য করা হবে না। কাজের মান খারাপ হলে কিংবা সরকারি অর্থের অপচয় হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উন্নয়ন কাজকে টেকসই এবং দুর্নীতিমুক্ত রাখতে তিনি শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে এলাকার সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও সোচ্চার থাকার অনুরোধ জানান। কোথাও কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির আঁচ পেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন। তার এই বক্তব্য বাউফলের স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement