সংবাদ শিরোনাম

পরিবর্তনের প্রতিটি অধ্যায়ে জনগণের আত্মত্যাগ রয়েছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

 প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

পরিবর্তনের প্রতিটি অধ্যায়ে জনগণের আত্মত্যাগ রয়েছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের ইতিহাসে জনগণ যখনই পরিবর্তনের দাবি তুলেছে, তখনই তাদের জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপ্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পেছনেই রয়েছে মানুষের আত্মত্যাগ। সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজে প্রকৃত অর্থে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য জনগণকে মূল্য দিতে হয়েছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও যদি পরিবর্তনের দাবিতে তরুণদের রক্ত ঝরাতে হয়, তবে সেটি জাতির জন্য গভীর আত্মসমালোচনার বিষয়।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে যে দেশের তরুণরাই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। তাঁদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তাঁর মতে, কেবল সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; মানুষের চিন্তাভাবনা, প্রশাসনিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।

নিজের দায়িত্ব গ্রহণের পরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো পুরোনো মানসিকতা ও পরিবর্তনবিমুখ প্রবণতা রয়ে গেছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনকে আরও জনমুখী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন তখনই হবে, যখন দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করবেন। প্রতিশোধ নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, সুশাসন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কেউ ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, ইতিহাসে যখনই অন্যায়-অবিচার ও শোষণ বেড়েছে, তখনই জনগণ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement