সংবাদ শিরোনাম

শাপলা চত্বর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় কারাগারে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী

 প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

শাপলা চত্বর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় কারাগারে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন দাখিল করা হয়নি। পরে আদালত তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া। আদালতে উপস্থিত ছিলেন লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কাদের সিদ্দিকীও।

এর আগে দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি মাইক্রোবাসে করে লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তার বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে ১০ জনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তারা হলেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু। এছাড়া অন্য একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু এবং গ্রেপ্তার রয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। মামলার বাকি আসামিরা পলাতক।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আবুবকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও যুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ বহু ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো, নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করা এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিপীড়নের অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব ঘটনা গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত।


Advertisement
Advertisement
Advertisement