সংবাদ শিরোনাম

সুন্দরবনের বাঘ ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে সরকার বদ্ধপরিকর— পরিবেশমন্ত্রী

 প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

সুন্দরবনের বাঘ ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে সরকার বদ্ধপরিকর— পরিবেশমন্ত্রী

ঢাকা, ২৮ জুলাই:

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বাঘ শুধু বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণীই নয়, এটি সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান নিয়ামক। তাই বাঘ সংরক্ষণ মানে কেবল একটি প্রাণীকে রক্ষা করা নয়; বরং পুরো বনজ প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আজ ‘বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’।

মন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমিয়ে আনতে সরকার সম্প্রতি ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিশন গঠন করেছে। কমিশন সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি, অবৈধভাবে দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করবে।

তিনি জানান, সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগ, বন বিভাগের নিবিড় তদারকি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতার ফলে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সুন্দরবনে ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে ১২৫টি বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম, কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপ এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাঘ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাঘ কিংবা বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও ট্রফি পাচারের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অপরাধ সম্পর্কে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাঘ আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য, সাহসিকতা ও জীববৈচিত্র্যের প্রতীক। সুন্দরবনে বাঘের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত এলাকার পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি বাঘের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে ৮০টি পুকুর খনন এবং বিশ্রামের জন্য ২০টি টিলা নির্মাণ করা হয়েছে। লোকালয় ও বনাঞ্চলের মধ্যে নাইলনের নেটের বেড়া স্থাপনের ফলে বর্তমানে বাঘের লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলেও তিনি জানান।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় বাঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঘের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. এ. আজিজ এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ।

এ সময় আলোচনায় অংশ নেন ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস. হোসেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement