রাজনীতি ছাপিয়ে মানবিকতা: রামিসার শোকাতপ্ত পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নেপথ্যে জোবাইদার সেই বিশেষ বার্তা
প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজনীতির চিরচেনা কঠোর সমীকরণ আর রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের বেড়াজাল ভেঙে এক অভূতপূর্ব আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হলো দেশবাসী। শিশু রামিসা আক্তারের নির্মম হত্যাকাণ্ড যখন পুরো দেশকে স্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে, তখন সেই ক্ষোভ আর শোকের মেঘ ছুঁয়ে গেল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়কেও। সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা একপাশে সরিয়ে রেখে নিহত রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে এক গভীর পারিবারিক ও মানবিক তাড়না, যার সুতোটি বেঁধে দিয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ড. জোবাইদা রহমান।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, রামিসার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশজুড়ে যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, তা গভীরভাবে স্পর্শ করে ড. জোবাইদা রহমানকে। একজন মা এবং সংবেদনশীল নাগরিক হিসেবে তিনি এই নির্মমতা মেনে নিতে পারেননি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই মুহূর্তে কেবল একজন অভিভাবক, রাষ্ট্রনায়ক কিংবা রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়; বরং নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে, একজন শোকার্ত কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ড. জোবাইদার এই একটিমাত্র বাক্য প্রধানমন্ত্রীর ভেতরের পিতৃত্ববোধকে জাগিয়ে তোলে এবং সমস্ত রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য করে।
স্ত্রীর এই অমূল্য ও হৃদয়স্পর্শী উপদেশের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আর এক মুহূর্তও বিলম্ব করেননি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সমস্ত প্রটোকল শিথিল করে ছুটে যান রামিসার শোকাচ্ছন্ন বাসভবনে। সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির। রামিসার মা-বাবার আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠা বাতাসে প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। শোকার্ত বাবার হাত দুটি জড়িয়ে ধরে তিনি বেশ কিছুক্ষণ নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তাঁর চোখেও অশ্রু দেখা যায়। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের এই মানবিক রূপ দেখে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্যদের বুকে টেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমবেদনা জানান এবং স্পষ্ট ভাষায় আশ্বস্ত করেন যে, এই ঘটনার বিচার প্রচলিত নিয়মের দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে থাকবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় তাকে রক্ষা করতে পারবে না।
রামিসার পরিবারের এই সাক্ষাৎকারের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে। অনেকেই মনে করছেন, আধুনিক সাংবাদিকতার এই যুগে এটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের খবর নয়, বরং ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে থাকা মানুষের ভেতরের মানবিকতার এক অনন্য দলিল। ড. জোবাইদা রহমানের সেই দূরদর্শী ও সংবেদনশীল পরামর্শ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তাৎক্ষণিক সাড়া—রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমাজকে এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জীবনের মূল্য রাষ্ট্রের কাছে সবার আগে।