সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি: স্বাধীন বিচার বিভাগের আকাঙ্ক্ষায় বড় আঘাত, অভিযোগ জামায়াতের

 প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি: স্বাধীন বিচার বিভাগের আকাঙ্ক্ষায় বড় আঘাত, অভিযোগ জামায়াতের

অনলাইন ডেস্ক :

​দেশের বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যেখানে ছিল ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার, সেখানে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে তা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্তকে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকরা। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত আকাঙ্ক্ষার অপমৃত্যু ঘটেছে। তারা একে বিচার বিভাগকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটি সূক্ষ্ম ও দূরভিসন্ধিমূলক প্রয়াস এবং জুলাই সনদের স্পিরিটের সঙ্গে স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করেছে।

​বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত বিচার বিভাগ গঠন করা কেবল তাদের দলের নয়, বরং বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তির অভিন্ন দাবি ছিল। দীর্ঘ বছর ধরে দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর নির্বাহী বিভাগের যে নগ্ন হস্তক্ষেপের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিল মানুষ। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তির এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত পুরো প্রক্রিয়াটিকে উল্টো পথে হাঁটানো শুরু করেছে, যা শেষ পর্যন্ত বিচারক এবং সামগ্রিক বিচারকাজকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলে বাঁধার পুরোনো পথকেই প্রশস্ত করবে।

​সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে বিচার বিভাগকে নিজেদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে সম্পূর্ণ কুক্ষিগত করেছিল, বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তের মধ্যে সেই একই ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যেখানে অক্সিজেনের মতো জরুরি, সেখানে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ সুশীল সমাজ ও আইনজীবী সমাজকেও গভীরভাবে হতাশ করেছে।

​আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব সচিবালয় থাকাটা ছিল বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতার এক অনন্য প্রতীক। সেটি ভেঙে দেওয়ার ফলে বদলি, পদোন্নতি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিচারকদের আবার মন্ত্রণালয়ের মুখাপেক্ষী হতে হবে, যা কার্যত তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার ক্ষমতাকে সংকুচিত করে তুলবে। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণ-আন্দোলনের শহীদদের রক্তে ভেজা জুলাই সনদের মূল চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হলে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ আমূল উপড়ে ফেলতে হবে, অন্যথায় ক্ষমতার নতুন অপব্যবহারের পথ উন্মুক্ত হয়ে পড়বে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement