বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে সায়েম মুস্তাকিম (১৭) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে
মোঃ রাকিব হাসান, সারিয়াকান্দি,বগুড়া:
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা সাড়ে ১২ টায় উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি এলাকায় নওখিলা পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সায়েম মুস্তাকিম উপজেলার ঘুঘুমারি উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত জয়নালের ছেলে। তিনি নওখিলা পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মা-বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। নানী কিছুদিন আগে মারা যাওয়ার পর নানীর বাড়িতে একাই থাকতেন সায়েম মুস্তাকিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মুস্তাকিমের সঙ্গে একই এলাকার ঘুঘুমারি দক্ষিণপাড়া গ্রামের শাহ আলী মণ্ডলের ছেলে শাহাদাত হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। শাহাদাত নিজাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনা নিয়ে এলাকার স্থানীয়রা সমাধান করার চেষ্টা করেন। তারপরও ২০ মে সায়েম মুস্তাকিম প্রাইভেট পড়তে আসলে শাহাদাত হোসেন মারধর করে। ২১ মে আবার প্রাইভেট পড়তে মুস্তাকিম আসলে শাহাদাত হোসেন চাকু দিয়ে মুস্তাকিমের ওপর হামলা চালান। এসময় মুস্তাকিমের পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। মুস্তাকিম রক্তাক্ত অবস্থায় বাঁচার চেষ্টায় দৌড় দিলে মাঠে পড়েন এবং সেখানেই আবার তার ডান পাশে পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মুস্তাকিমকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন শাহাদাত হোসেন বাবা শাহআলীর উপস্থিতে তার শক্তিতে এ হত্যা ঘটিয়েছে। হত্যাকারীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, কিছুদিন আগে ফুটবল খেলার ফাউল নিয়ে তাদের মধ্যে গন্ডগোল হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।