ঈদযাত্রায় স্বস্তি: গাবতলীর যানজট জটলা খুলতে নতুন সংযোগ সড়ক
মহানগর ডেস্ক:
আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখী মানুষের রাজধানী ছাড়ার চিরাচরিত ভোগান্তি ও অন্তহীন অপেক্ষা ঘুচাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রতিবছর ঈদের মৌসুমে গাবতলী বাস টার্মিনাল কেন্দ্রিক যে তীব্র ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়, তা থেকে নগরবাসীকে নিষ্কৃতি দিতে তড়িঘড়ি করে নির্মাণ করা হয়েছে একটি নতুন সংযোগ সড়ক। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে গাবতলী ইন্টারসেকশন থেকে মূল বাস টার্মিনাল পর্যন্ত নবনির্মিত এই সড়কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। আর এর মাধ্যমেই উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলগামী লাখো মানুষের ঈদযাত্রায় স্বস্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
উদ্বোধন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রতিবছর ঈদের সময় গাবতলী এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে নারী, শিশুসহ সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকে নষ্ট হয় অমূল্য সময়। নগরবাসীর এই দীর্ঘদিনের চিরচেনা ভোগান্তি দূর করতেই ডিএনসিসি অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সড়কটি নির্মাণ ও উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। আধুনিক নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৈরি করা এই সড়কটি উৎসবের দিনগুলোতে রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বারের চাপ অনেকটাই সামাল দিতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ ও ট্রাফিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন এই সংযোগ সড়কটি চালু হওয়ার ফলে দূরপাল্লার বাসগুলো এখন আর মূল সড়কের জটলায় না ফেঁসে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও সহজে টার্মিনালে প্রবেশ করতে এবং বের হতে পারবে। এতে যাত্রী ওঠানামার জন্য যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো তা অনেকাংশে কমে আসবে এবং টার্মিনালের ভেতরের গাড়ি ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে। ফলে গাবতলী গাবতলী-আমিনবাজার মহাসড়ক এবং এর আশপাশের লিংক রোডগুলোর দীর্ঘদিনের যানজট চিত্র এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, কেবল সড়ক নির্মাণ করেই ক্ষান্ত থাকছে না প্রশাসন। আসন্ন ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত আরও স্বস্তিদায়ক করতে এবং টার্মিনালকেন্দ্রিক সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমন্বয় করে কাজ করছে। কোনো পরিবহন যেন যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে এবং কাউন্টারগুলোর সামনে মানুষের জটলা নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেজন্য ঈদের ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে বিশেষ মনিটরিং টিম। নতুন এই সড়কটি চালু হওয়ায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা গেছে। সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সড়কটির শতভাগ সুফল মিললে এবারের ঈদযাত্রা বিগত যেকোনো বছরের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সাধারণ যাত্রীরা।