প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের নতুন সমীকরণ: সচিবালয়ে নীতিনির্ধারণী বৈঠক
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ সচিবালয়ের চারপাশ জুড়ে তখন সন্ধ্যার আবহ। ঠিক সেই মুহূর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুরু হয় এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারের নীতিনির্ধারক ফোরাম—মন্ত্রিপরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই বৈঠকটিকে ঘিরে বিকেল থেকেই সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি এবং আগামী দিনের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশের চলমান সার্বিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক নীতিমালার সংস্কার এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে এই সভায় আলোচনা চলছে। মন্ত্রিসভার প্রায় সকল সদস্যই এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই সভায় সভাপতিত্ব করা এবং একই সাথে দলীয় প্রধানের ভূমিকা বজায় রাখার বিষয়টি প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এক ধরনের নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বৈঠকটি চলমান থাকায় এজেন্ডাগুলোর চূড়ান্ত রূপ কী হতে যাচ্ছে, তা জানতে বাইরে অবস্থানরত গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে গভীর আগ্রহ দেখা যায়।
আধুনিক সাংবাদিকতার গতিশীল ধারা এবং জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতার গুরুত্ব বিবেচনা করলে এই বৈঠকটির সময়কাল ও প্রেক্ষাপট অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সাধারণত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকগুলো সপ্তাহের শুরুর দিকে দিনের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হলেও, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই জরুরি সভার আয়োজন বিশেষ কোনো প্রশাসনিক তাগিদ বা বড় ধরনের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের দিকেই ইঙ্গিত করে। সভাকক্ষে প্রবেশের সময় মন্ত্রীদের গম্ভীর ও তৎপর উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, দেশের চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের রূপরেখা আজ রাতেই চূড়ান্ত হতে পারে।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, এই বৈঠকে বেশ কয়েকটি নতুন অধ্যাদেশ অনুমোদন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে বড় ধরনের নির্দেশনা আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, বৈঠক শেষে বিস্তারিত সিদ্ধান্তগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। তবে তার আগেই, সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে ঘেরা সচিবালয়ের এই বৈঠকটি যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মানচিত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে স্থান করে নিচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।