মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষেই পল্লবীতে প্রধানমন্ত্রী: শিশু রামিসার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

 প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৯:১৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষেই পল্লবীতে প্রধানমন্ত্রী: শিশু রামিসার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​নৃশংসতার শিকার হয়ে অকালে ঝরে যাওয়া ফুটফুটে শিশু রামিসার শূন্যতায় স্তব্ধ মিরপুরের পল্লবীর সেই বাড়িটি। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে আছে চারপাশের বাতাস। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটির শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে আজ রাতেই তাদের বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ৯টার পর যেকোনো মুহূর্তে সরকারপ্রধানের পল্লবীর ওই বাসভবনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​আজ বিকেল থেকেই থমথমে পল্লবীর ওই এলাকা। রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। এলাকার সাধারণ মানুষ ও রামিসার প্রতিবেশীরাও ভিড় করেছেন বাড়ির সামনে। সকলের চোখেমুখেই একাধারে বিচারের দাবি এবং প্রিয় সন্তানকে হারানোর এক গভীর বিষাদ স্পষ্ট।

​এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার রাতে সচিবালয়ে এক জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক আহ্বান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার বিষয়ে জোরালো আলোচনা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম রাষ্ট্রীয় বৈঠক শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী কোনো বিলম্ব না করে সরাসরি নিহতের পরিবারের কাছে ছুটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

​প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, রামিসার ওপর হওয়া এই পাশবিক ও নির্মম নির্যাতনের খবর পাওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। তিনি প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়কে এই ঘটনার দ্রুততম তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। আজ রাতের এই আকস্মিক ও সংবেদনশীল সফর কেবল একটি সান্ত্বনা দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের কঠোরতম অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকেরা।

​একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মর্মান্তিক চলে যাওয়া পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রকে নাড়া দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত হয়ে শোকগ্রস্ত বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ একদিকে যেমন বিচারপ্রার্থী পরিবারটিকে কিছুটা হলেও মানসিক শক্তি যোগাবে, অন্যদিকে তেমনি সাধারণ মানুষের মনে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের ব্যাপারে আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে পল্লবীর সেই বাড়িটির দিকে, যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান নিজেই যাচ্ছেন এক অসহায় পরিবারের কান্নার ভাগীদার হতে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement