কৃষি সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ–পাকিস্তান বৈঠক: বাণিজ্য, গবেষণা ও ব্লু ইকোনমিতে নতুন সম্ভাবনা
ডেক্স নিউজ:
ঢাকা, মঙ্গলবার: কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সচিবালয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময়, শিক্ষা ও গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করতে উভয় দেশই বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ সরকার কৃষিখাতকে রপ্তানিমুখী করতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আধুনিক চাষাবাদ, যান্ত্রিকীকরণ এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি খাতে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানান, তার দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃষি ও ভেটেরিনারি বিষয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণবৃত্তির সুযোগ রয়েছে। তিনি দুই দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে “ব্লু ইকোনমি” বা সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়। কৃষিমন্ত্রী বলেন, গভীর সমুদ্রে টেকসই মৎস্য আহরণ এবং সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ খাতে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে পাকিস্তান উন্নত জাতের গবাদিপশুর সঙ্গে সংকরায়ণের মাধ্যমে বাংলাদেশের দেশি গরুর দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়াতে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।
বাণিজ্যিক দিক থেকেও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী পাকিস্তানকে বাংলাদেশ থেকে আনারসসহ বিভিন্ন ফল আমদানির আহ্বান জানান। জবাবে হাইকমিশনার পাকিস্তান থেকে চাল, ভুট্টা, তুলা, ফল এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র রপ্তানির প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল ইক্ষু চাষ এবং চিনি উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী পাকিস্তানের প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দুই দেশের কৃষি ও জলবায়ুগত সাদৃশ্য রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা যৌথভাবে কাজ করলে উভয় দেশই লাভবান হবে।”
বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে কৃষি, গবেষণা ও বাণিজ্যে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।