সংবাদ শিরোনাম

ইরানি বন্দরে ফের অবরোধ, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা

 প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরানি বন্দরে ফের অবরোধ, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী শান্তি সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ার মধ্যেই দেশটির বন্দরগুলোতে আবারও অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার রাত ৮টা (গ্রিনিচ মান সময়) থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একই সময়ে সেন্টকম ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযানের ওপর হামলা চালাতে ব্যবহৃত ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই নতুন দফার এই হামলা শুরু হয়েছে।

এর কিছুক্ষণ আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহরের আশপাশে মার্কিন হামলা হয়েছে। দিনের শুরুতে আবাদান, মাহশাহর, কেশম দ্বীপ ও কিশ দ্বীপেও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবর দেয় তেহরান। আবাদানে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে পুরোনো তেল শোধনাগার রয়েছে।

এর আগের রাতেও বুশেহর ও বন্দর আব্বাসসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।

এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে ওমানের জলসীমায় চলাচলরত দুটি জাহাজে হামলা চালায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত একজন নাবিক নিহত হন। একই দিনে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে পাল্টা হামলাও চালায় তেহরান।

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি রেসুল সারদার বলেন, সংঘাত এখন নিম্নমাত্রার হলেও তা ক্রমেই দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাতারের দোহা থেকে আল জাজিরার আরেক প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া গেটেনবি জানান, ইরানের ধারাবাহিক হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলো এবং জর্ডানে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দুটি সুপার ট্যাংকারে হামলার দায় স্বীকার করেছে। বাহিনীটির দাবি, বারবার সতর্ক করার পরও জাহাজ দুটি নির্দেশনা অমান্য করায় সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত রুট ব্যবহার করতে জাহাজগুলোকে উৎসাহিত করছে। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করলে হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হতে আরও বিলম্ব হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও গভীর হবে।

এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী কাতার। ওমান সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক নৌ-আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় দুই নাবিক নিহত হয়েছেন এবং এই সংঘাতের চক্র দ্রুত বন্ধ হওয়া জরুরি।

আইআরজিসি জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলারও দাবি করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি থাকা বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ইরানের একটি আকাশপথের হামলা প্রতিহত করেছে। মঙ্গলবার রাতের দিকে কুয়েতও জানায়, তাদের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুপক্ষের আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলা করছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর কথা নিশ্চিত করেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। এক দিন আগেই তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এর পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধা পাবে।

পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, সর্বশেষ সামরিক উত্তেজনার সূচনা করেছে ইরানই।

তার ভাষায়, “ওরাই প্রথম গুলি চালিয়েছে। এটা ছিল বড় ভুল। এরপর থেকে আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হেনে চলেছি।”

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা মনে করেন, প্রবল চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনাই ট্রাম্পের কৌশল। তবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ, কারণ তেহরান বরাবরই জানিয়ে এসেছে, চাপের মুখে তারা ছাড় দেবে না; বরং পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত ধ্বংস করেছে এবং এর সব শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তার বক্তব্য, এখন ওই সমঝোতার অধীনে ইরানের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, হরমুজ প্রণালির বিষয়েও নয়। অবরোধ বা সামরিক চাপ সৃষ্টি করে তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা যাবে, ওয়াশিংটনের এমন ধারণা ভুল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: আলজাজিরা