সংবাদ শিরোনাম

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-জাইদি বৈঠক, বড় চুক্তির আশ্বাস

 প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-জাইদি বৈঠক, বড় চুক্তির আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির হোয়াইট হাউস বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, ইরাকের তেল উৎপাদন বাড়ানো এবং একাধিক বড় বিনিয়োগ ও জ্বালানি চুক্তির ইঙ্গিত দেন দুই নেতা। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহার এবং দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্যও সামনে আসে।

মঙ্গলবার ওভাল অফিসে বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্প ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদিকে প্রশংসায় ভাসান। ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও রাজনীতিতে নতুন এই নেতাকে তিনি "অসাধারণ একজন চ্যাম্পিয়ন" বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, ইরাকের বিপুল তেলসম্পদকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় দেশেই কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং ইরাকের তেল উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

অন্যদিকে আলি আল-জাইদি এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষায়, এটি সাধারণ কোনো রাষ্ট্রীয় সফর নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সূচনা। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন সামরিক সহযোগিতা থেকে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রশ্নে ট্রাম্প প্রকাশ্যে আলি আল-জাইদিকে সমর্থন দেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির বিরোধিতা করেন। ইরানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ও বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আল-মালিকি পরে এপ্রিল মাসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান।

আল-জাইদির এই সফরের আগে থেকেই ইরাকি সরকার জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তেল ও গ্যাস খাতে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। বৈঠকেও সেই সম্ভাবনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।

দুই নেতা জানান, বর্তমানে ইরাকে অবস্থানরত দুই হাজারেরও কম মার্কিন সেনা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে। একই সময়সীমার মধ্যে ইরাকে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্যও পুনর্ব্যক্ত করেন আল-জাইদি।

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর থেকে ইরাকে বিভিন্ন আধাসামরিক গোষ্ঠী শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পার্লামেন্টে দেওয়া প্রথম ভাষণেই এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছিলেন আল-জাইদি। তবে কীভাবে তিনি এই কঠিন লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

সফরের ঠিক আগে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক জানিয়ে দেয়, ওয়াশিংটন সফর থেকে যে সিদ্ধান্তই আসুক, তারা তা মেনে নেবে না।

ইরাক দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। আইএসআইএল (আইএস) দমনে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি এবং ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব দেশটির রাজনীতিকে জটিল করে তুলেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবও ইরাকের ওপর পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যত নিয়ন্ত্রণ ও নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় দেশটির জ্বালানি রপ্তানি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ইরাকের দৈনিক প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়।

সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ওই সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আলি আল-জাইদি ওপেকে (OPEC) ইরাকের জন্য "ন্যায্য অংশ" দাবি করেন। তিনি বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে ইরাকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িঘর হারিয়ে শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন।

তিনি বলেন, "বাস্তুচ্যুত মানুষকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আমার রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইরাকের তেল উৎপাদনের কোটা বাড়ানো জরুরি। তাই ওপেকে আমরা আমাদের ন্যায্য অংশ চাই।"

সূত্র: আলজাজিরা