হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন ক্ষমতা: বিশ্ব অর্থনীতির সামনে অচেনা সংকট

 প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন ক্ষমতা: বিশ্ব অর্থনীতির সামনে অচেনা সংকট

আন্তর্জাতিক ডেক্স নিউজ:

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়ন বিশ্ব অর্থনীতির সামনে এক নতুন অনিশ্চয়তার ছবি এঁকেছে। তারা সতর্ক করেছে যে ইরান এখন থেকে ইচ্ছামতো হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে সক্ষম। এই সংকীর্ণ জলপথটি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানির প্রধান পথ, যা বন্ধ হলে বৈশ্বিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। সূত্রগুলো বলছে, ইরান কার্যত প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ হাতে তুলে নিয়েছে, যা “যেকোনো পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা, যার মাধ্যমে প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে গোয়েন্দা মূল্যায়ন ইঙ্গিত করছে, ইরান ভবিষ্যতে আবারও প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, ইরান যদি প্রতিশ্রুতি না রাখে তবে তারা কোনো সুবিধা পাবে না।

ইরানের হাতে এখনও রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, শত শত দ্রুতগামী নৌকা এবং মাইন পাতার ক্ষমতা। এগুলো ব্যবহার করে তারা প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে হয়রানি করতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ইরান প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত তার সামরিক শিল্প পুনর্গঠন করছে এবং নতুন ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে। একইসঙ্গে তারা শিখেছে যে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে লক্ষ্যবস্তু হামলা চালিয়ে একটি অপ্রতিসম সক্ষমতা তৈরি করা যায়, যা ভবিষ্যতে তাদের দর কষাকষির ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

চীন ও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের প্রণালী বন্ধের প্রচেষ্টায় অসন্তুষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ আত্মঘাতী পরিণতি ডেকে আনতে পারে। জাহাজ শিল্পের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অনিশ্চয়তার কারণে কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে প্রণালী দিয়ে যান চলাচল প্রায় বন্ধ থাকতে পারে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে গেলে ইরান ইয়েমেনের হুথি বাহিনীকে দিয়ে বাব-এল-মানদেব প্রণালী বন্ধ করাতে পারে। এটি লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

গোয়েন্দা মূল্যায়নগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্তের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে তুলে ধরছে, যেখানে তিনি ইরানের ইচ্ছাকে পুরোপুরি বিবেচনা না করেই সংঘাত শুরু করেছিলেন। এখন ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা প্রণালী বন্ধ করার মতো বিশ্বাসযোগ্য সক্ষমতা রাখে। যদিও ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে প্রণালীটি “আংশিকভাবে খোলা” এবং শুক্রবার পুরোপুরি খুলে যাবে, তবুও প্রশ্ন রয়ে গেছে—কোনো চুক্তি কীভাবে ইরানকে ভবিষ্যতে একই পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে।

মার্কিন প্রশাসন বলছে, তাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যা প্রণালী পুনরায় বন্ধ করা অসম্ভব করে তুলবে। তবে বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন ক্ষমতা আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তথ্য সূত্র : সিএনএন

Advertisement
Advertisement
Advertisement