ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি সমঝোতা চূড়ান্ত, জেনেভায় স্বাক্ষরের প্রস্তুতি

 প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি সমঝোতা চূড়ান্ত, জেনেভায় স্বাক্ষরের প্রস্তুতি

  দীর্ঘ কয়েক মাসের সংঘাত, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বহুপাক্ষিক আলোচনার পর অবশেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ বলেন, নিবিড় ও ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা অর্জিত হয়েছে। চুক্তির বাস্তবায়নের আগে কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে এ সপ্তাহে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় সহায়তার জন্য তিনি কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে এবং এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বাধা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, জেনেভায় অনুষ্ঠেয় স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকতে পারেন। ট্রাম্প নিজেও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরানে দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক হয়েছে। প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় উভয় পক্ষের সংশোধনী ও প্রস্তাব নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগোনোর আগে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা চলবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খসড়া সমঝোতা স্মারকের তথ্যে বলা হয়েছে, এতে ১৪টি মূল বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তেহরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা।

খসড়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা, জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘসহ ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

তারা দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বাধাহীন নৌযান চলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তারা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া এবং পারস্য উপসাগর এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। নতুন এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement