নিউইয়র্কে ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক পেলেন সুদানে নিহত ছয় বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী
অনলাইন ডেস্ক:
নিউইয়র্ক। জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুদানের কাদুগলি এলাকায় জাতিসঙ্ঘ শানিতো কর্মকাণ্ডে নিহত ছয় জন বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিহত শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং তাদের সাহস, আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার স্মরণ করেন।
বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব সাম্প্রতিক কয়েক দশকে শান্তিরক্ষী শিবিরে অবদান রাখা সদস্যদের কথা তুলে ধরে বলেছিলেন, শান্তি স্থাপনে নিয়োজিত তাদের ত্যাগের মূল্য অনন্য। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে বর্তমানে ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের অবদান আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অপরিহার্য। একই অনুষ্ঠানে নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবার, সহকর্মী ও প্রতিনিধিদের সামান্য হলেও মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য এই পদক প্রদান করা হয়েছে।
পদক গ্রহণ করেন বাংলাদেশের জাতিসংঘ স্থায়ী প্রতিনিধি সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে জাতিসংঘ মহাসচিব থেকে। ওই প্রতিনিধিদল সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে এই সম্মাননা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নিহত শান্তিরক্ষীদের সাহস, আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে দেয়া হয়েছে।
মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত শান্তিরক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন করপোরাল মো: মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো: জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো: সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো: মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা ও প্রাইভেট সান্তো মন্ডল। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের পতাকাতলে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় নিহত হন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাদের নিরবে স্মরণ করে রণাঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের অবদানের ওপর বিশেষ করে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
চলতি বছর মোট ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রবর্তিত এই পদকটি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অবদান ও আত্মত্যাগ স্বীকৃতির উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ শোকবইতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শান্তি রক্ষার জন্য আরও সক্রিয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।