দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নাগরিক, আহত ৮
অনলাইন ডেস্ক:
ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। গত বুধবার সকালে দিল্লির একটি হোটেলে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের নাম মো. নুরুল আমিন (৪৪)। তিনি পরিবারসহ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন।
নয়াদিল্লি হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৪ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকালের ওই অগ্নিকাণ্ডে দুটি বাংলাদেশি পরিবার বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হোটেলে অবস্থান করা উভয় পরিবারই মূলত দিল্লির নিকটবর্তী বিখ্যাত ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। সাতটি দেশের মোট ২২ জন নাগরিকের মধ্যে যারা এই দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন, মো. নুরুল আমিন তাদেরই একজন। বর্তমানে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন নিহতের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক হতাহত হয়েছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে স্থানীয় ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন ৯ জন এবং আহত হয়েছেন ৩ জন। এছাড়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে মোজাম্বিকের ২ জন, লাইবেরিয়ার ১ জন, নাইজেরিয়ার ৪ জন এবং উজবেকিস্তানের ১ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে নেপাল, ক্যামেরুন, কেনিয়া ও কিরগিজস্তানের ২ জন করে, লাইবেরিয়ার ৩ জন, নাইজেরিয়ার ১ জন এবং কাজাখস্তানের ৩ জন নাগরিক রয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বৃহস্পতিবার সকালে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার স্বয়ং ম্যাক্স হাসপাতালে যান। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন সকল বাংলাদেশি নাগরিককে দেখতে যান এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন আটজন বাংলাদেশির মধ্যে তিনজনের অবস্থা বেশ গুরুতর।
আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সর্বাত্মক চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হাইকমিশন ইতিমধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করেছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রোগী ও হাসপাতালের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখতে হাইকমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বর্তমানে হাসপাতালেই অবস্থান করছেন। নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে হাইকমিশন।