দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: বাংলাদেশিসহ ২১ জনের মৃত্যুতে জামায়াতের শোক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক:
ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির একটি আবাসিক হোটেলে ঘটে যাওয়া এক প্রলয়ঙ্কারী অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ অন্তত ২১ জন নিহত এবং আরও ৪৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ৮টা ৪৮ মিনিটে দিল্লির মালভিয়া নগরের ‘ফ্লুরিশ স্টে বিঅ্যান্ডবি’ নামের একটি বহুতল আবাসিক হোটেলে এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে থাকা পর্যটক ও আবাসিক অতিথিরা দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সকালের ব্যস্ত সময়ে আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে হোটেলের করিডোর ও কক্ষগুলো ঘন কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়, যার ফলে অনেকেই বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকেরই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে এবং বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডিতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৭ জনই বিদেশি নাগরিক, যার মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকও রয়েছেন। এছাড়া চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে শনাক্ত করা হয়েছে। দূর প্রবাসে আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় প্রিয়জনদের হারানোর খবরে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মাঝে চরম আর্তনাদ ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা হোটেলের অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার কোনো ত্রুটি ছিল কি না কিংবা এটি কোনো বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লেগেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার তীব্রতায় গভীর দুঃখ প্রকাশ, শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিশেষ বিবৃতিতে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সাথে তিনি এই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। জামায়াত নেতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সূত্র ধরে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, এই মর্মন্তুদ ঘটনা কেবল ভারতের জন্য নয়, বরং নিহত বিদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ দেশের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহগুলো অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এবং সেখানে চিকিৎসাধীন আহত বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ মানের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য জোর আহ্বান জানান। একই সাথে হোটেলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন বা সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রতিও জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারতে হতাহত হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের এই কঠিন সময়ে তাদের পরিবারের পাশে সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ানো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং চিকিৎসাধীন নাগরিকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকাকে দিল্লির সাথে সার্বক্ষণিক কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। একই সাথে আকস্মিক এই বিপর্যয়ে নিপতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন এই কঠিন সময়ে তারা অন্তত কিছুটা হলেও পুনর্বাসনের সুযোগ পান।