চট্টগ্রামের অনন্যা আবাসিক এলাকায় দুর্লভ কালো-মাথা মুনিয়ার দেখা, সংরক্ষণে সচেতনতার আহ্বান

 প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন   |   জাতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

চট্টগ্রামের অনন্যা আবাসিক এলাকায় দুর্লভ কালো-মাথা মুনিয়ার দেখা, সংরক্ষণে সচেতনতার আহ্বান

ডেক্স নিউজ:

 চট্টগ্রাম নগরের অনন্যা আবাসিক এলাকার জলাভূমি ও ঘাসবনভিত্তিক প্রাকৃতিক পরিবেশে দুর্লভ আবাসিক পাখি কালো-মাথা মুনিয়ার (Black-headed Munia) উপস্থিতি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাখি ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরায়নের চাপের মধ্যেও এ ধরনের আবাসস্থল সংরক্ষণ করা গেলে বহু বিরল ও দুর্লভ পাখির নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) একটি ব্যবহারিক পরীক্ষা উপলক্ষে সফরকালে পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান অনন্যা আবাসিক এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেখানে কালো-মাথা মুনিয়ার একটি জোড়া এবং একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক (বাচ্চা) পাখি পর্যবেক্ষণ ও আলোকচিত্রে ধারণ করেন।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, কালো-মাথা মুনিয়া ইস্ট্রিলডি (Estrildidae) গোত্রভুক্ত একটি ছোট আকারের বীজভোজী পাখি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Lonchura atricapilla। একসময় এটি তিনরঙা মুনিয়ার উপপ্রজাতি হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০০০ সালে স্বতন্ত্র প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ পাখির বিস্তৃতি রয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্ক কালো-মাথা মুনিয়ার মাথা, ঘাড় ও গলা উজ্জ্বল কালো রঙের এবং দেহের বাকি অংশ গাঢ় তামাটে বর্ণের। অপরদিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির পালক অপেক্ষাকৃত ফ্যাকাশে ও অনুজ্জ্বল হয়ে থাকে। সাধারণত এরা জোড়ায় কিংবা ছোট দলে বিচরণ করে এবং ঘাসবিচি ও বিভিন্ন শস্যবীজ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

পাখিটির প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ সময় নলখাগড়া, লম্বা ঘাস, ঝোপঝাড় কিংবা তাল-খেজুর গাছে শুকনো ঘাস ও চিকন ডালপালা দিয়ে বাসা তৈরি করে। স্ত্রী পাখি সাধারণত ৫ থেকে ৬টি সাদা রঙের ডিম পাড়ে এবং প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে ছানা ফোটে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অনন্যা এলাকার হোগলা বন, জলাশয় ও ঘাসবন কালো-মাথা মুনিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করছে। তবে ক্রমবর্ধমান নগরায়ন ও আবাসস্থল সংকোচনের কারণে এসব পাখি নানা হুমকির মুখে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, পোষার উদ্দেশ্যে প্রকৃতি থেকে মুনিয়াসহ বিভিন্ন বন্য পাখি ধরে আনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া বন্য পাখি শিকার, সংগ্রহ বা পালন নিষিদ্ধ।

প্রকৃতির ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কালো-মাথা মুনিয়াসহ সব বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement