২২৮ বছরের লন্ডন রেস্তোরাঁয় থমকে আছে সময়ের গল্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লন্ডনের বুকে এমন এক রেস্তোরাঁ আছে, যেখানে ঢুকলেই মনে হয় সময় পেছনে ফিরে গেছে। ১৭৯৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই ঐতিহাসিক খাবারের ঠিকানা আজও ধরে রেখেছে পুরোনো ব্রিটিশ ঐতিহ্য।
‘অয়েস্টার। পাই। পুডিং।’—এই তিনটি শব্দেই যেন পরিচয় মেলে লন্ডনের সবচেয়ে পুরোনো রেস্তোরাঁ হিসেবে পরিচিত Rules-এর। সেন্ট্রাল লন্ডনের কোভেন্ট গার্ডেন এলাকার এই রেস্তোরাঁয় প্রায় ২৩০ বছর ধরে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।
১৭৯৮ সালে থমাস রুল এটি একটি অয়েস্টার বার হিসেবে শুরু করেছিলেন। এরপর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে এসেছেন বিশ্বের বহু পরিচিত মানুষ। সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্স থেকে শুরু করে ম্যাডোনা, ডেভিড বোয়ি এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ—অনেক বিখ্যাত অতিথির স্মৃতি রয়েছে এই রেস্তোরাঁয়।
সিনেমা ও টেলিভিশনেও Rules-এর আলাদা পরিচিতি আছে। ২০১৫ সালের জেমস বন্ড সিনেমা “Spectre”-এ এর দৃশ্য দেখা গেছে। জনপ্রিয় সিরিজ “Downton Abbey”-এর শুটিংও হয়েছে এখানে, কারণ রেস্তোরাঁটির পুরোনো সাজসজ্জা আজও প্রায় আগের মতোই রয়েছে।
রেস্তোরাঁটির বর্তমান মালিক রিকি ম্যাকমেনেমি ১৯৯৩ সালে এখানে কাজ শুরু করেন এবং ২০২২ সালে মালিকানা নেন। তিনি জানান, একসময় Rules-এর অবস্থা খুব ভালো ছিল না। রান্নাঘর সংস্কারসহ বড় ধরনের পরিবর্তনে কয়েক লাখ পাউন্ড খরচ করা হয়। তবে লক্ষ্য ছিল আধুনিক করা, কিন্তু ঐতিহ্য হারিয়ে না ফেলা।
আজও Rules-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ব্রিটিশ ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে বন্য প্রাণীর মাংস দিয়ে তৈরি খাবারের জন্য এটি বিখ্যাত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও রেস্তোরাঁটি চালু ছিল এবং তখন রেশনিংয়ের বাইরে থাকা বন্য শিকার করা মাংস দিয়ে খাবার পরিবেশন করত।
মেনুতে রয়েছে ডরসেটের কাঁকড়ার সালাদ, স্কটল্যান্ডের ধোঁয়া দেওয়া স্যামন, স্টেক অ্যান্ড কিডনি পুডিং, রোস্ট বিফ, বিভিন্ন ধরনের পাই এবং পুরোনো ধাঁচের মিষ্টান্ন। খাবারের পাশাপাশি রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পানীয় ও পুরোনো দিনের আবহের ককটেল বার।
রেস্তোরাঁটির দেয়ালজুড়ে রয়েছে বিখ্যাত অতিথিদের ছবি, পুরোনো আয়না, ভাস্কর্য ও নানা স্মৃতিচিহ্ন। এর ওপরের Winter Garden বারেও রয়েছে এক ধরনের পুরোনো দিনের আভিজাত্য।
Rules-এর নিয়মিত অতিথি জন ও আলেক্সান্দ্রা পাওয়েল গত ২৫ বছর ধরে প্রায় প্রতি মাসে এখানে আসেন। জন পাওয়েল বলেন, এমন জায়গা আর কোথাও পাওয়া যাবে না। অনেকেই অনুকরণ করেছে, কিন্তু আসল আবহ তৈরি করতে পারেনি।
তিন শতাব্দীর কাছাকাছি সময় ধরে টিকে থাকা Rules আজও প্রমাণ করছে—ঐতিহ্য, ভালো খাবার এবং মানুষের ভালোবাসা থাকলে একটি রেস্তোরাঁ সময়ের সীমানাও পেরিয়ে যেতে পারে।