সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

 প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন   |   জাতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

ডেক্স ‍নিউজ:

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে রমনা রেসকোর্স ময়দানের নাম ছিল 'রমনা জিমখানা'। সে সময় রমনায় ছিল ব্রিটিশ সৈন্যদের একটি সামরিক ক্লাব। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমলে রমনা ছিল একটি জঙ্গলাকীর্ণ পরিত্যক্ত এলাকা। ১৮২৫ সালে ঢাকার ব্রিটিশ কালেক্টর ডয়েস ঢাকার উন্নয়নকল্পে পুরো রমনা এলাকা পরিষ্কার করে নাম দেন রমনা গ্রিন। তারপর রমনাকে রেসকোর্স হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাঠের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেন। প্রতি রোববার রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত হতো ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। একেকটি ঘোড়ার ওপর বাজি ধরা হতো। ঢাকার নবাবদের আনুকূল্যে একসময় ঘোড়দৌড় খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং তারা রেসকোর্স এলাকাটির উন্নয়ন সাধন করেন। নবাবরা সেখানে একটি সুন্দর বাগান তৈরি করে তার নাম দেন শাহবাগ। রমনা রেসকোর্সে একটি চিড়িয়াখানাও স্থাপন করেছিলেন তারা।

১৮৫১ সালে রেসকোর্সের উত্তর কোণে ব্রিটিশ আমলারা ঢাকা ক্লাব স্থাপন করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ঢাকার খ্যাতনামা আলেম মুফতি দীন মোহাম্মদ এক মাহফিল থেকে ঘোড়দৌড়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। সে কারণে ১৯৪৯ সালে ঘোড়দৌড় বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময় নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যে ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করা হতো।


১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেল থেকে মুক্তি পেলে এই রমনা রেসকোর্সে ২৩শে ফেব্রুয়ারি তাঁকে এক নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রমনা রেসকোর্স ময়দানে এক মহাসমাবেশে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে দেশের স্বাধীনতার ডাক দেন। এ ময়দানেই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে এলে তাঁকে এই ময়দানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ১৯৭২ সালের ১৭ই মার্চ এই মাঠেই অনুষ্ঠিত এক বিরাট জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বক্তব্য রাখেন।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশে মদ-জুয়া বন্ধের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক রমনা রেসকোর্স ময়দানে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা বন্ধ করে দেন। বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছানুসারে তখন ঢাকা পৌরসভা এটিকে উদ্যানে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় 'সোহরাওয়ার্দী উদ্যান'। ১৯৭৫ সালের পর এলাকাটি সবুজ গাছপালায় আচ্ছাদিত একটি পার্কে পরিণত করা হয় এবং একপাশে শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি শিশু পার্ক নির্মাণ করা হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা সংক্রান্ত যেসব ঐতিহাসিক ঘটনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৯৯৯ সালে 'শিখা চিরন্তন' স্থাপন করা হয়। এছাড়া পরবর্তীতে এখানে স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘর নির্মাণ করা হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement