আলী আমজাদের ঘড়িঘর: ইতিহাসের সাক্ষী সুরমা তীরে
ডেক্স রির্পোট:
সিলেট নগরীর প্রবেশমুখে সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে ক্বীন ব্রিজের ডান পাশে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী আলী আমজাদের ঘড়িঘর। স্থানীয়দের কাছে এটি সুপরিচিত ‘আলী আমজাদের ঘড়ি’ নামে, যা শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
জানা যায়, ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে কুলাউড়ার পৃথিমপাশার প্রখ্যাত জমিদার আলী আমজাদ খান এই ঘড়িঘর নির্মাণ করেন। লোহার খুঁটির ওপর স্থাপিত এবং ঢেউটিনের গম্বুজ আকৃতিতে নির্মিত এই স্থাপনাটি তৎকালীন সময়েই নগরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ঘড়িটির ব্যাস প্রায় আড়াই ফুট এবং এর কাঁটা প্রায় দুই ফুট লম্বা—যা সে সময়ের নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
মুক্তিযুদ্ধের আগে পর্যন্ত ঘড়িটি নিয়মিত সচল ছিল এবং সময় জানানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর গোলার আঘাতে ঘড়িঘরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকে।
পরবর্তীতে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি পুনরায় সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়। মেরামতের মাধ্যমে ঘড়িটির কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে সিলেটের অতীত ঐতিহ্য তুলে ধরতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
আজও সুরমা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা আলী আমজাদের ঘড়িঘর শুধু সময় জানানোর মাধ্যম নয়, বরং এটি সিলেটের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক জীবন্ত